বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) জমে উঠেছে লড়াই। দ্বিতীয় রাউন্ডেই টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও মজবুত করেছে নর্থ জোন। বলা যায় ফাইনালের পথে এক পা দিয়ে রেখেছে তারা। রাজশাহীতে সাউথ জোনকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্ত-লিটন কুমার দাসরা। অন্য ম্যাচে বগুড়ার শহিদ চান্দু স্টেডিয়ামে ইস্ট জোনকে ৫ উইকেটে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছে সেন্ট্রাল জোন।
রাজশাহীতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নর্থ জোনের পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি সাউথ জোন। মাত্র ১৪৪ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। ওপেনার সৌম্য সরকার টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যর্থ। প্রথম ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর এদিন ৮ বলে ৯ রান করে ফেরেন তিনি। আরেক ওপেনার আনিসুল ইসলাম রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন।
মিডল অর্ডারে সুবিধা করতে পারেননি জাওয়াদ আবরার ও আফিফ হোসেন ধ্রুব। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা আফিফ এদিন করেন মাত্র ৪ রান। দলের হয়ে লড়াই করেন মোহাম্মদ মিঠুন। ৭৯ বলে ৫৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। নুরুল হাসান সোহান করেন ২৩ বলে ২৪ রান, আর রবিউল হক যোগ করেন ২২ বলে ২৯ রান। নর্থ জোনের বোলারদের মধ্যে নাহিদ রানা ও এসএম মেহরব নেন ৩টি করে উইকেট। মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ও শরীফুল ইসলাম শিকার করেন দুটি করে উইকেট।
১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি নর্থ জোনেরও। ৩৭ রানের মধ্যেই টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। হাবিবুর রহমান সোহান, তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত দ্রুত বিদায় নেন। তবে চারে নেমে লিটন কুমার দাস ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন নিজের হাতে। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৬৫ বলে ৬টি চারে ৫৫ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাওহীদ হৃদয় করেন ৩৩ রান। আকবর আলী ২২ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে জয় নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে বগুড়ায় ২৩৮ রানের লক্ষ্য পায় সেন্ট্রাল জোন। শুরুতে সাইফ হাসান আউট হলেও মোহাম্মদ নাঈম শেখ দলকে এগিয়ে নেন। মাহফিজুল ইসলাম রবিনের সঙ্গে ৪৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। রবিন ৪৭ বলে ২৯ রান করে আউট হন। নাঈম দারুণ ব্যাটিং করে ৯৮ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৮৩ রান করেন।
শেষদিকে আবু হায়দার রনি অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। বল হাতে ১ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে ৪২ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ১১ বলে ২০ রান করে অপরাজিত থাকেন। ইস্ট জোনের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন জাকির হাসান। ইয়াসির আলী করেন ৩৭ রান। সেন্ট্রাল জোনের রাকিবুল হাসান নেন ৩টি উইকেট, আর তাসকিন আহমেদ ও রিপন মণ্ডল শিকার করেন দুটি করে উইকেট।
দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে নর্থ জোন ও সেন্ট্রাল জোনের জয় টুর্নামেন্টে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইঙ্গিত মিলছে সামনে আরও জমজমাট লড়াইয়ের।
এফআর