বিশ্বকাপ ফুটবলের রোমাঞ্চকর ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হারের পর অবশেষে প্রথমবার নিজের মনের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভাবঘন বার্তায় শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার গভীর কষ্ট প্রকাশের পাশাপাশি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন এই ফুটবল জাদুকর।
নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের চোখধাঁধানো গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বসেরার মুকুট ছিনিয়ে নেয় স্পেন। এর ফলে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে জার্সিতে চতুর্থ তারকা যোগ করার স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায় আলবিসেলেস্তেদের।
রোমাঞ্চকর এই ফাইনালের একদিন পর নিজের নীরবতা ভেঙে মেসি লিখেছেন, ‘ব্যথাটা সত্যি অসীম। এই গভীর ক্ষত সারতে হয়তো অনেকটাই সময় লাগবে।’ তবে এই কষ্টের মাঝেও পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে পাওয়া ইতিবাচক স্মৃতিগুলো আঁকড়ে ধরে রাখতে চান তিনি।
৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা মনে করিয়ে দিয়েছেন, খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো, দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ ত্যাগ এবং কোটি কোটি দেশবাসীর সমর্থনই আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই দলের একটিতে পরিণত করেছে।
মেসি উল্লেখ করেন, তাৎক্ষণিকভাবে এই অর্জনের পুরো মূল্য উপলব্ধি করা কঠিন হলেও, একটি দলের পক্ষে পরপর দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামা অসাধারণ এক সাফল্য। ২০২২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো তাদের।
অসীম হতাশার মধ্যেও আর্জেন্টিনা দলের মূল কাণ্ডারি দেশবাসীর প্রতি নিজের গভীর কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেছেন। প্রতিটি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা বার্তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিশ্বকাপ আসর আবারও পুরো আর্জেন্টিনার মানুষকে এক সুতোয় বেঁধেছে এবং দেশের নাগরিক হিসেবে সবাইকে গর্বিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
একই সঙ্গে স্প্যানিশ দলের প্রাপ্য স্বীকৃতি দিতেও ভুল করেননি মেসি। বার্তার শেষ অংশে উদার মনে তিনি যোগ করেন, ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ায় স্পেনকেও আমার পক্ষ থেকে অনেক অভিনন্দন।’
ফাইনালের মহারণে স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণের সামনে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেননি মেসি। পরবর্তীতে ফেরানের গোলের পর সমতা ফেরানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও দেশকে আরেকটি রূপকথার প্রত্যাবর্তন উপহার দিতে ব্যর্থ হন তিনি।
তবে আবেগঘন এই বার্তায় নিজের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ৩৯ বছর বয়সেও দলের প্রাণভোমরা হয়ে থাকা মেসি জাতীয় দলের জার্সি চিরতরে তুলে রাখবেন নাকি খেলা চালিয়ে যাবেন— তা নিয়েই এখন পুরো ফুটবল বিশ্বে ঘুরপাক খাচ্ছে বড় প্রশ্ন।
সময়ের আলো/জেডি