অবশেষে কক্সবাজারে ফিফার অর্থায়নে প্রস্তাবিত টেকনিক্যাল সেন্টারের জন্য জমির জটিলতা কাটল। কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশিদনগরের ধলিরছড়া মৌজায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে ১৫ দশমিক ২০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আগামী সোমবার কক্সবাজারে জেলা প্রশাসন ও বাফুফের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। বাফুফের গভর্নমেন্ট রিলেশনস কমিটির চেয়ারম্যান ও সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরি হ্যাপি জানিয়েছেন, জমির মূল্য বাবদ কয়েক কোটি টাকা চেয়েছিল ভূমি মন্ত্রণালয়। তবে সেই অর্থ দেওয়ার সামর্থ্য বাফুফের না থাকায় ফেডারেশন প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করে। পরে মাত্র ১ লাখ ১ টাকা নামমাত্র মূল্যে জমিটি বাফুফের অনুকূলে লিজ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কক্সবাজারে ফিফার টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের আলোচনা অবশ্য বেশ পুরোনো। কাজী সালাউদ্দিনের সময়ে রামুতে এ প্রকল্পের জন্য চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু প্রস্তাবিত জায়গার বড় একটি অংশ বনভূমির মধ্যে পড়ায় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর আপত্তি ওঠে। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই চুক্তি বাতিল করে। এরপর কক্সবাজারের অন্য এলাকায় নতুন জায়গা খুঁজে নেয় বাফুফে।
জায়গা নির্বাচন ও অর্থসংকটের কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকায় ফিফার বরাদ্দ করা অর্থ হারানোর শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। কারণ, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত জমির ওপর বাফুফের অন্তত ২০ বছরের মালিকানা বা দখল নিশ্চিত না হলে অনুদান দেওয়া হয় না।
নতুন জমি পাওয়ায় সেই শঙ্কা আপাতত কেটে গেছে। বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিলটন জানিয়েছেন, চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফিফার কাছে পাঠানো হবে। এরপর দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে, কারণ টেকনিক্যাল সেন্টারের জন্য ফিফার অনুদান ইতোমধ্যে বরাদ্দ রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, টেকনিক্যাল সেন্টারে তিনটি ফুটবল মাঠ, জিমনেশিয়াম, সুইমিংপুল এবং দুটি ডরমেটরি নির্মাণ করা হবে।
এদিকে আগামী সোমবার কক্সবাজারেই বাফুফের নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় টেকনিক্যাল সেন্টারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি দেশের ফুটবলের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে। বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা সোমবার সকালে কক্সবাজারে গিয়ে সভা ও চুক্তি স্বাক্ষর শেষে বিকেলে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
সময়ের আলো/টিকে