ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দেওয়া শোকজ নোটিশ নিয়ে মুখ খুলেছেন কবি জসীমউদ্দিন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও ডাকসুর জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত শোকজের প্রেক্ষিতে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন ভিডিও বার্তায়।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বক্তব্যে হামিম জানান, রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি শোকজ নোটিশটি দেখতে পান। সেখানে তার নাম উল্লেখ করে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভিডিও বার্তায় হামিম বলেন, শোকজ প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তবে কেন তাকে শোকজ করা হয়েছে- এ বিষয়ে তিনি শুরুতে কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেন।
তিনি জানান, বিষয়টি জানতে সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দপ্তর সম্পাদক তাকে জানান, সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশেই নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং বিস্তারিত জানতে প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
আরও পড়ুন
পরে তিনি জানতে পারেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত তার একটি ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করেই এ শোকজ। ওই আয়োজনে কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা এবং পরবর্তীতে সম্মিলিত ইফতারের ব্যবস্থা ছিল। হামিমের দাবি, প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার উদ্দেশ্যেই তিনি এই আয়োজন করেছিলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তার প্রাণের সংগঠন এবং অতীতে ডাকসু নির্বাচনে সংগঠনটির মনোনয়নে তিনি জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। রমজান উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এ আয়োজন করেছেন বলে জানান তিনি।
শোকজ নোটিশ সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলেও তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিঠি পাঠানো হয়নি- এ বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন হামিম। তিনি বলেন, লিখিত জবাব চাওয়া হলেও ব্যক্তিগতভাবে নোটিশ না পাওয়ায় তিনি লিখিত জবাব দেবেন না।
তার বক্তব্য, যদি সংগঠনের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা মনে করেন তিনি অন্যায় করেছেন, তবে তিনি দায় স্বীকার করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে যদি মনে করা হয় তার সঙ্গে অবিচার হয়েছে, সেটিও তিনি সংগঠনের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে এখনো কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে সংগঠনের ভেতরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দেশের অন্যতম বৃহৎ ছাত্রসংগঠন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস রাজনীতিতে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে।
এএডি/