লেখালেখি, গবেষণা ও রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকা মার্কসবাদী তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমরকে স্মরণ করছে তার প্রতিষ্ঠিত জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। সোমবার তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করেছে সংগঠনটি।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কর্মসূচির তথ্য জানান জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার সকাল ৮টায় জুরাইন গোরস্তানে বদরুদ্দীন উমরের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এ সময় জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলভুক্ত বিভিন্ন শ্রেণি ও গণসংগঠনের পক্ষ থেকেও তার কবরে শ্রদ্ধা জানানো হবে।
একই দিন বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়ে বদরুদ্দীন উমরের জীবন ও কর্মের ওপর আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করবে সংগঠনটির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন (একাংশ)।
এ ছাড়া ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ‘বাংলাদেশের বিপ্লবী আন্দোলন ও কমরেড বদরুদ্দীন উমর’ শীর্ষক এ সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেবেন।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল জানিয়েছে, বদরুদ্দীন উমরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার চট্টগ্রাম, সিলেট ও যশোরেও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বদরুদ্দীন উমর গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর ভারতের বর্ধমানে জন্মগ্রহণ করেন বদরুদ্দীন উমর। তাঁর বাবা আবুল হাশিম ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের একজন মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ। ১৯৫০ সালে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন তিনি। এর আগে বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন।
ঢাকায় এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন বদরুদ্দীন উমর। স্নাতক শেষে ১৯৫৫ সালে দর্শনশাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স শেষ করার আগেই দর্শন বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ১৯৫৬ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ এবং ১৯৫৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর উদ্যোগেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
ষাটের দশকে তাঁর প্রকাশিত তিনটি বই—‘সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৬), ‘সংস্কৃতির সংকট’ (১৯৬৭) ও ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৯)—বাংলার জাতীয়তাবাদ ও সমাজ-রাজনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ সময় পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে তাঁর বিরোধও বাড়তে থাকে।
১৯৬৮ সালে শিক্ষকতা থেকে ইস্তফা দিয়ে সরাসরি রাজনীতি ও লেখালেখিতে যুক্ত হন বদরুদ্দীন উমর। তিনি বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন। একসময় পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতেও ছিলেন তিনি।
২০০৩ সালে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল গঠন করে সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব নেন বদরুদ্দীন উমর।
অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য ছিল, এর আগেও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাঁকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল, তবে তিনি কোনো পুরস্কারই গ্রহণ করেননি।
সময়ের আলো/এসএকে