অধিবেশনের আগে চিফ হুইপ ও হুইপ নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি

রফিকুল ইসলাম সবুজ

জাতীয়

আগামী ১২ মার্চ বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হলেও সংসদ কক্ষে আসনবিন্যাস অর্থাৎ কোন আসনে

2026-03-01T05:20:24+00:00
2026-03-01T05:20:24+00:00
 
  সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬,
১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
অধিবেশনের আগে চিফ হুইপ ও হুইপ নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি
সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনের প্রস্তুতি চলছে
রফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: রোববার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৫:২০ এএম 
ফাইল ছবি
আগামী ১২ মার্চ বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হলেও সংসদ কক্ষে আসনবিন্যাস অর্থাৎ কোন আসনে কে বসবেন তা এখনও ঠিক হয়নি। সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, অধিবেশনের উদ্বোধনী বৈঠকের আগেই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সংসদের চিফ হুইপ ও ৫ জন হুইপ নিয়োগ দেবেন। এরপরই চিফ হুইপ ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বৈঠক করে সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখার সহায়তায় অধিবেশন কক্ষের আসনবিন্যাস চূড়ান্ত করবেন। স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী উদ্বোধনী বৈঠকে একজন সংসদ সদস্যের সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও পাঁচবারের বর্ষীয়ান সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এ বৈঠক হতে পারে।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিরোধী দল জামায়াতে ইসলাম সংসদীয় দলের বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতা মনোনীত করলেও সংসদ কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী তাদের স্বীকৃতি দেবেন স্পিকার। ফলে নবনির্বাচিত স্পিকারের অনুমোদনের পর সংসদ সচিবালয় বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা ও চিফ হুইপের স্বীকৃতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

সূত্র জানায়, সংসদ অধিবেশনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে সংসদ সচিবালয়। এমপিদের দলীয় অবস্থান, কতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তা বিবেচনায় নিয়ে আসন বিন্যাসের খসড়াও তৈরি করছে সংসদের আইন শাখা। চিফ হুইপ ও হুইপ নিয়োগ হওয়ার পর সংসদ কক্ষের আসন বিন্যাস চূড়ান্ত করা হবে। সংসদের চিফ হুইপ হিসেবে জয়নুল আবদিন ফারুকের নাম আলোচনায় রয়েছে। আর বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মনোনীত হয়েছেন এনসিপির নাহিদ ইসলাম। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা মন্ত্রী এবং উপনেতা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান। 

বিরোধীদলীয় নেতা এবং উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) অধ্যাদেশে তাদের সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করা রয়েছে। সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতার পৃথক কার্যালয়ও রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে বিরোধী দলের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি স্পিকারের একক এখতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কার্যপ্রণালি বিধির ২ (১) (ট) বিধিতে বলা হয়েছে, ‘বিরোধী দলের নেতা’ অর্থ স্পিকারের বিবেচনা মতে যে সংসদ সদস্য সংসদে সরকারি দলের বিরোধিতাকারী সর্বোচ্চসংখ্যক সদস্য লইয়া গঠিত ক্ষেত্রমত দল বা অধিসংঘের নেতা।’ সে হিসেবে বিরোধী দলের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি স্পিকারের একক এখতিয়ার। ফলে যেহেতু বর্তমানে সংসদে স্পিকার নেই এ কারণে নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পরই বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, অধিবেশন শুরুর পর প্রথম স্পিকার নির্বাচন হওয়ার পরপরই সংসদ কিছু সময়ের জন্য মুলতবি করা হবে। সংসদ ভবনে স্পিকার রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেওয়ার পর তার সভাপতিত্বে আবার সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। নির্বাচিত স্পিকার তখন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন পরিচালনা করবেন। একই সঙ্গে তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মনোনয়ন দেবেন এবং শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। চলতি অধিবেশনেই উত্থাপন করা হবে বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলো। প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে সংবিধানে।

অধিবেশন উপলক্ষে সংসদ ভবনের ভেতর ও বাইরে পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতির কাজ শেষ হয়েছে। অধিবেশনের জন্য অধিবেশন কক্ষ ও সেখানকার সাউন্ড সিস্টেম প্রস্তুত করার পাশাপাশি প্রটোকল, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সচিবালয়ের বিভিন্ন দফতর ও শাখা প্রস্তুত করা হয়েছে। সংসদের প্লেনারি হলসহ অন্যসব অফিস সংস্কার করে অধিবেশনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাংবিধানিকভাবে ১৩৩ অধ্যাদেশ জারি করেছেন তার প্রত্যেকটিই পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, তারা সব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করছেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সব অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি দেবে না বর্তমান সরকার। সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এবং একেবারে প্রয়োজনীয় কিছু অধ্যাদেশ বাছাই করছেন তারা। সেগুলোই সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপন করে আইনে পরিণত করা হবে।

নতুন স্পিকার পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মোট পাঁচবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়া ড. আবদুল মঈন খানের নাম আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি বরিশাল-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের নামও আলোচনায় রয়েছে। ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছেন ভোলা-১ আসনের বিজেপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের নাম। সংসদ উপনেতা হিসেবে আলোচনায় রয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম। আর চিফ হুইপ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু ও নুরুল ইসলাম মনির নাম।

হুইপ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন খুলনার এমপি বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচিত এমরান আহমেদ চৌধুরী, ড. রেজা কিবরিয়া ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম।

সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সংসদ উপনেতা নিয়োগের ক্ষেত্রে সংসদীয় দলের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সংসদ নেতা যে নামটি প্রস্তাব করেন, স্পিকার সেটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠান। রাষ্ট্রপতির নিয়োগ দেওয়ার পর সংসদ সচিবালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এ পদের জন্য কোনো শপথ নেওয়ার দরকার হয় না। সংসদ উপনেতা মন্ত্রীর পদমর্যাদা ও সুবিধা পেয়ে থাকেন। জাতীয় সংসদের সদ্য-অবসরে যাওয়া পরিচালক কামরুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি আদেশের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও হুইপ নিয়োগ দেবেন। পরে সংসদ সচিবালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। চিফ হুইপ ও হুইপদের শপথগ্রহণ করতে হয় না। চিফ হুইপ মন্ত্রী পদমার্যাদা এবং হুইপরা প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা পেয়ে থাকেন। তবে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের কোনো পদমর্যাদা না থাকলেও সংসদ ভবনে তার জন্য অফিস কক্ষ ও স্টাফ রয়েছে।

এমপিদের বাসা ও অফিস বরাদ্দ : মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দ করা ৬টি ভবনে ২১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ভবনে ১০৮টি ফ্ল্যাট রয়েছে, যেগুলোর আয়তন ১২০০ বর্গফুট। অবশিষ্ট ৩টি ভবনের ১০৮টি ফ্ল্যাট রয়েছে ১৬৫০ বর্গফুটের। এ ছাড়া নাখালপাড়ায় আরও ৪৮টি ফ্ল্যাট রয়েছে। অন্যদিকে সংসদ ভবনের বাইরে পুরাতন এমপি হোস্টেলে সংসদ সদস্যদের জন্য অফিস কক্ষ রয়েছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনই এমপিরা ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেতে জাতীয় সংসদের হোস্টেল শাখায় এসে যোগাযোগ করছেন। তবে সংসদ কমিটি গঠিত না হওয়ায় বরাদ্দ দেওয়া যাচ্ছে না। তাই যোগাযোগকারীদের অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের বাসা ও অফিস বরাদ্দের বিষয়টি দেখভাল করে জাতীয় সংসদের ‘সংসদ কমিটি’। পদাধিকারবলে সংসদের চিফ হুইপ এই কমিটির সভাপতি হয়ে থাকেন। কিন্তু সংসদের অধিবেশন না বসা পর্যন্ত সংসদ কমিটি বা হাউস কমিটি গঠিত না হওয়ায় বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় যেতে পারছে না সংসদ সচিবালয়। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় সংসদ ভবন ছাড়াও সংসদ সদস্য ভবন ও এমপি হোস্টেলের অফিসগুলোতে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ফ্ল্যাট ও অফিসগুলো সংস্কার করে পুরোপুরি ব্যবহারোপযোগী করা যায়নি।



  বিষয়:   সংসদ  চিফ হুইপ  হুইপ 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: