একসময় বইমেলা মানেই ছিল গল্প-উপন্যাসের খোঁজে পাঠকের ভিড়। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে পাঠকের চিন্তা, আগ্রহ ও চাহিদা। সেই পরিবর্তনের স্পষ্ট ছাপ পড়েছে অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। পাঠকের রুচি এখন আর আগের মতো একরৈখিক নেই, সময়ের সঙ্গে তা বহুমাত্রিক হয়ে উঠেছে।
গতকাল সোমবার মেলার বিভিন্ন স্টলে ঘুরে দেখা যায় পাঠকের হাতে শুধু সাহিত্য নয়, রয়েছে রাজনীতি, ইতিহাস, অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান, প্রযুক্তি থেকে শুরু করে আত্মোন্নয়নমূলক নানা বই।
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সমসাময়িক বৈশ্বিক ইস্যুভিত্তিক বইয়সহ বিখ্যাত বিদেশি লেখকদের অনুবাদ বইয়ের প্রতি আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। একই সঙ্গে ফিকশন, থ্রিলার ও সায়েন্স ফিকশন ধারার বইয়ের জনপ্রিয়তাও কমেনি। শিশু-কিশোরদের জন্যও রয়েছে আলাদা আয়োজন। গল্প, ছড়া, কবিতার পাশাপাশি চিত্রভিত্তিক গল্প, বিজ্ঞানভিত্তিক বই, সৃজনশীল ও শিক্ষামূলক নানা বই।
প্রকাশকরা বলছেন, এখন পাঠক শুধু বিনোদন খোঁজেন না, তারা জানতে চান, বুঝতে চান এবং নিজেকে প্রস্তুত করতে চান। তাই বইয়ের বিষয়বস্তুও বিস্তৃত হচ্ছে।
উত্তরা থেকে মেলায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসেন নুসাইবা। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অথৈজল বইটি কিনেছি। এখনও পুরো মেলার স্টলগুলোতে ঘুরে দেখা হয়নি। ঘুরে দেখার পর সেসব বই পছন্দ হবে সেগুলো নেব।’
মেলায় হাঁটতে হাঁটতে কথা হয় রাকিব হাসান নামের এক তরুণের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অনুবাদ সাহিত্য এখন খুব টানে। বিদেশি লেখকদের চিন্তাভাবনা জানার জন্য এসব বই পড়ি।’
বাতিঘর স্টলের বিক্রয়কর্মী দুর্জয় চন্দ্র সরকার বলেন, ‘আমাদের এখানে সব ধরনের বই রয়েছে। এর মধ্যে ছোটগল্প, থ্রিলার ও অনুবাদ বইগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে।’
জনতা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আরমান হোসেন বলেন, ‘আমাদের স্টলে ছোটগল্পের বই, বিজ্ঞান সম্পর্কিত বই, বিখ্যাত ব্যক্তিদের অনুবাদ বইগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে।’
এদিকে গতকাল বইমেলার পঞ্চম দিনে ছুটির দিন ব্যতীত অন্যান্য দিনের মতোই তেমন পাঠক ও দর্শকদের সমাগম দেখা যায়নি। গতকাল মেলার সময়সূচি ছিল দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং তথ্যকেন্দ্রে মেলার নতুন বই জমা পড়েছে ৪০টি।
বেলা ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘সার্ধশত জন্মবর্ষ : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।
প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হামীম কামরুল হক। আলোচনায় অংশ নেন পারভেজ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন সফিকুন্নবী সামাদী।
‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ও এজাজ ইউসুফী।
বিকাল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন শাহনাজ পারভীন লিপি, শামীমা চৌধুরী, রোকসানা আক্তার এবং ঝর্ণা আলমগীর। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী শিমু দে, অণিমা রায়, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, পাপড়ি বড়ুয়া, ফারাহ হাসান মৌটুসী ও খোকন চন্দ্র দাস।
আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে হবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বেলা ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘জন্মশতবর্ষ : তাজউদ্দীন আহমদ’। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মহিউদ্দিন আহমদ। আলোচনায় অংশ নেবেন সাজ্জাদ সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। বিকাল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।