উপন্যাসের চাহিদা বেশি

মোশফিকুর রহমান ইমন

জাতীয়

অমর একুশে গ্রন্থমেলাসহ দেশের সৃজনশীল বইয়ের বাজারে বরাবরই উপন্যাসের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। অবশ্য এ বছরের অমর একুশে গ্রন্থমেলা রোজায় হওয়ায়

2026-03-04T06:31:51+00:00
2026-03-04T06:31:51+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
উপন্যাসের চাহিদা বেশি
মোশফিকুর রহমান ইমন
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩১ এএম 
সংগৃহীত ছবি
অমর একুশে গ্রন্থমেলাসহ দেশের সৃজনশীল বইয়ের বাজারে বরাবরই উপন্যাসের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। অবশ্য এ বছরের অমর একুশে গ্রন্থমেলা রোজায় হওয়ায় প্রথম থেকেই মেলায় ভিড় একদমই কম। বিক্রিতেও চলছে মন্দা। 

তবে এরমধ্যেও মেলার প্রকাশনীর স্টলগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন ক্যাটাগরির বইয়ের মধ্যে উপন্যাসের চাহিদাই বেশি।

আদর্শ প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি ফারদিন আহমেদ বলেন, এবারের বইমেলায় বেচা-বিক্রি একটু কম। এরমধ্যে উপন্যাসটা মোটামুটি যাচ্ছে। মুরাদ কিবরিয়ার ‘নিনাদ’ ও আশীফ এন্তাজ রবির ‘আমারে দেব না ভুলিতে’ বই দুটি ভালো চলছে।

কথা প্রকাশ প্রকাশনীর ইনচার্জ ইউনুস আলী বলেন, আমরা সবসময় মানসম্মত বই রাখার চেষ্টা করি। কবিতা, উপন্যাস, গল্প, অনুবাদ যা আছে সবই মোটামুটি চলছে। এবার বিক্রি একদমই কম। কারণ মেলায় ভিড় নেই দর্শনার্থী-ক্রেতা কম। তবে সবকিছুর মধ্যে উপন্যাসের বইয়ের চাহিদা আছে তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। এরমধ্যে হরিশংকর জলদাসের ‘ঘটৎকচ’ ও  ওয়াসি আহমেদের ‘কার্পাস মহল’ বেশি বিক্রি হচ্ছে।

পাঠকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জীবনবোধের গভীরতা এবং একটি সম্পূর্ণ গল্পের ভেতর দীর্ঘ সময় ডুবে থাকার সুযোগ পাওয়াই উপন্যাসের জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।

এ বিষয়ে ​তানিয়া আহমেদ নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, আমি মূলত থ্রিলার এবং সাইকোলজিক্যাল উপন্যাস বেশি পড়ি। উপন্যাসের একটা বড় গুণ হলো, এটি পাঠককে একটা সমান্তরাল জগতের ভেতর নিয়ে যায়। কয়েকশ পৃষ্ঠার একটি গল্প যখন শেষ করি, মনে হয় আমি নিজে সেই চরিত্রগুলোর সঙ্গে জীবন কাটিয়ে এলাম। ছোটগল্পে সেই ঘোরটা অনেক সময় দ্রুত কেটে যায়। 

শফিকুল ইসলাম নামের এক পাঠক বলেন, জীবনের এই প্রান্তে এসে আমি ঐতিহাসিক উপন্যাস বেশি খুঁজি। উপন্যাসের বিস্তারিত বর্ণনা আর কালজয়ী চরিত্রগুলোর মাধ্যমে ইতিহাসের জটিল বিষয়গুলোও খুব সহজে বোঝা যায়। একটি ভালো উপন্যাস পড়ার সময় মনে হয় আমি যেন সেই পুরোনো সময়ে সশরীরে উপস্থিত আছি। 


নওরীন সুলতানা নামের এক ব্যাংকার বলেন, ব্যস্ততার মাঝে উপন্যাস আমার কাছে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি। বিশেষ করে জীবনধর্মী বা পারিবারিক টানাপড়েনের গল্পগুলো পড়তে ভালো লাগে। উপন্যাসের বিস্তারিত বর্ণনার কারণে চরিত্রের আবেগগুলো নিজের বলে মনে হয়। কোনো কোনো উপন্যাস শেষ করার পরও তার রেশ কয়েক দিন মনে থেকে যায়। এখন বই দেখছি। পরে কিনব।

জামান হোসেন নামের এক স্কুল শিক্ষক বলেন, সারা দিন কাজের চাপে থাকি, তাই অবসরে এমন কিছু পড়তে চাই যা আমাকে অন্য এক জগতে নিয়ে যাবে। উপন্যাস সেই সুযোগটা দেয়। প্রবন্ধ বা কবিতার চেয়ে একটি দীর্ঘ কাহিনি পড়ার মধ্যে যে ধারাবাহিকতা থাকে, তা আমাকে বেশি টানে। ভালো প্লট আর শক্তিশালী গদ্যশৈলী থাকলে সেই উপন্যাস পড়ার আনন্দই আলাদা।

গত সোমবার ছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলার পঞ্চম দিন। এদিন মেলা শুরু হয় দুপুর ২টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। পঞ্চম দিন পর্যন্ত মোট বই এসেছে ১৩৬টি। এরমধ্যে প্রথম দিনের হিসাব দেয়নি বাংলা একাডেমি।

মূলমঞ্চ : গত সোমবার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘সার্ধশত জন্মবর্ষ : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হামীম কামরুল হক। আলোচনায় অংশ নেন পারভেজ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন সফিকুন্নবী সামাদী।

লেখক বলছি মঞ্চ : সোমবার ‘লেখক বলছি মঞ্চ’ অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ও এজাজ ইউসুফী।  

এ ছাড়া এদিন বিকাল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন শাহনাজ পারভীন লিপি, শামীমা চৌধুরী, রোকসানা আক্তার এবং ঝর্ণা আলমগীর। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী শিমু দে, অণিমা রায়, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, পাপড়ি বড়ুয়া, ফারাহ হাসান মৌটুসী ও খোকন চন্দ্র দাস। 

গতকাল বিকালে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘জন্মশতবর্ষ : তাজউদ্দীন আহমদ’ শীর্ষক আলোচনা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহিউদ্দিন আহমদ। আলোচনায় অংশ নেন সাজ্জাদ সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। বিকাল ৪টায় আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

সময়ের আলো/এআর


  বিষয়:   উপন্যাস  চাহিদা 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: