রমজানের রাতে ইবাদতে ব্যস্ত ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। সেই সময়ই আগুন কেড়ে নিল এক পরিবারের শেষ আশ্রয়। একই রাতে ব্যাটারি বিস্ফোরণে আরেকটি পরিবারের ব্যবসার একমাত্র পুঁজি পুড়ে যায়।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে তালতলী উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের জাকির তবক গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এ সময় বাড়ির মালিক মো. নিজাম মোল্লা (৪৫) তখন কর্মসূত্রে বাইরে ছিলেন। তার বাবা বারেক মোল্লা মসজিদে তারাবির নামাজে এবং স্ত্রী সালমা বেগম পাশের বাড়িতে নামাজ আদায়ে গিয়েছিলেন।
বাড়িতে অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন নিজাম মোল্লার মা সকিনা বেগম। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হয়ে তিনি দেখেন আগুনের লেলিহান শিখায় পুরো ঘর গ্রাস করছে। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলেও ততক্ষণে বসতঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, নগদ অর্থসহ প্রয়োজনীয় মালামাল আগুনে ভস্মীভূত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত নিজাম মোল্লা বলেন, সবকিছু পুড়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কী খাব, বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে কোথায় যাব বুঝতে পারছি না। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
একই রাতে প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের অঙ্কুজানপাড়া ব্রিজঘাট এলাকায় মোস্তফা মুন্সির দোকানের ভাড়াটিয়া রাজিবের পার্টসের দোকানে রাখা একটি অটোগাড়ির ব্যাটারি বিস্ফোরিত হয়ে আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে দোকানঘর ও অটোগাড়িতে। এতে দোকানের মালামাল ও অটোগাড়ি পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত রাজিব জানান, এটাই ছিল আমার একমাত্র উপার্জনের পথ। প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।
দুটি ঘটনায় সম্মিলিতভাবে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং সাধ্যমতো সহায়তা প্রদান করা হবে।
ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান হাবিব জানান, আগুনের সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক ত্রুটি ও ব্যাটারি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/আরবিএন