চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পূর্ববিরোধের জেরে নজরুল ইসলাম নামে এক শিক্ষকের ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে। হামলায় তার শরীরের অন্তত পাঁচ স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শহিদ মেজর নাজমুল হক সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আহত নজরুল ইসলাম ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উকিলের পাড়ার আবদুল গনির ছেলে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর ভাই নাজিম উদ্দীন জানান, ঘটনার দিন শিক্ষক নজরুল ইসলাম পুরাতন মা-মণি হাসপাতালের পেছনে আমিরাবাদ চেরিগ্রামার স্কুলের পাশ থেকে টিউশন শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ৬-৭ জন দুর্বৃত্ত তাকে ঘিরে ধরে এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে ডেভিড জিহাদও ছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।
জানা গেছে, ডেভিড জিহাদ স্থানীয় যুবদল নেতা মুসলিমের অনুসারী। গত ২২ আগস্ট ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনায় পুলিশ ডেভিড জিহাদকে আটক করেছিল। পরে যুবদল নেতা মুসলিম থানায় গিয়ে নিজ দায়িত্বে তাকে ছাড়িয়ে নেন। এছাড়া গত ৪ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যুবদল নেতা মুসলিমের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য র্যালিতে ডেভিড জিহাদকে মুসলিমের ফটোকার্ড নিয়ে সামনের সারিতে দেখা গেছে।
এদিকে, ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন সুমন বলেন, গত ২২ আগস্ট কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আহত নজরুল ইসলামের ভাই ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজিম উদ্দীন তার সঙ্গে থানায় গিয়েছিলেন। এ কারণে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নাজিম উদ্দীনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারে। তার ধারণা, মূলত নাজিম উদ্দীনকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে গিয়ে ভুলবশত তার ভাই নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করা হয়ে থাকতে পারে।
আহত শিক্ষকের ফুফু আয়েশা বেগম জানান, ছেলেকে ছুরিকাঘাত করার খবর শুনে তার মা জাহানারা বেগম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে লোহাগাড়া সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ হোসাইন আল ইমরান বলেন, আহত এক শিক্ষককে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছিল। তার শরীরের প্রায় পাঁচ স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যুবদল নেতা মুসলিমের মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই