ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় ব্যবহৃত বিপুল সংখ্যক ড্রোন ভূপাতিত করা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে পুরোপুরি সম্ভব নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা।
গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে এক অত্যন্ত গোপনীয় ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনসহ পেন্টাগনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই বিস্ফোরক তথ্য জানান।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি সামনে এনেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
বৈঠকে সামরিক কর্মকর্তারা জানান, ইরান বর্তমানে এক অভিনব ও ব্যয়সাশ্রয়ী যুদ্ধকৌশল গ্রহণ করেছে। তারা হাজার হাজার 'একমুখী আক্রমণাত্মক' শাহেদ ড্রোন মোতায়েন করছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ও মূল্যবান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদ দ্রুত শেষ করে দেওয়া।
জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করে বলেন, যদিও মার্কিন বাহিনী এসব ড্রোনের সিংহভাগ ধ্বংস করতে সক্ষম, তবে সবকটি ড্রোন আকাশেই রুখে দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাহেদ ড্রোনগুলো তুলনামূলক ধীরে এবং রাডারের নজর এড়াতে বেশ নিচু দিয়ে উড়তে পারে, যা প্যাট্রিয়ট বা থাডের মতো প্রথাগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন তাদের কৌশল পরিবর্তন করে আকাশ প্রতিরক্ষার চেয়ে সরাসরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলগুলো ধ্বংস করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানিয়েছে।
একজন জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা অবশ্য দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে বাধ্য করার যে কৌশল ইরান নিয়েছে, তা সফল হয়নি। কারণ যুক্তরাষ্ট্র এখন বিভিন্ন বিকল্প ও সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে এসব ড্রোন ধ্বংস করছে।
এদিকে, যুদ্ধের আকাশচুম্বী ব্যয় নিয়ে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সংঘাতের প্রথম কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক ব্যয় ছিল প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার, যা বর্তমানে কমে প্রতিদিন ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
যদিও জেনারেল কেইন প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে, আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত নির্ভুল গোলাবারুদ রয়েছে, তবে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তিনি মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, গোলাবারুদের মজুদ নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউস।
সোমবার রাতে এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাঝারি ও উচ্চ-মাঝারি মানের গোলাবারুদের মজুদ প্রায় 'অসীম' এবং দেশিটি অনির্দিষ্টকাল এই যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা রাখে।
বুধবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিটও সুর মিলিয়ে বলেন, আমাদের এমন সব গোপন অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে যা সম্পর্কে পৃথিবীর অনেকেরই ধারণা নেই।
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী লড়াই চালানোর মতো পর্যাপ্ত রসদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে নিরাপত্তার খাতিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
সময়ের আলো/আরবিএন