টানা ৮ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানও জোরালো পাল্টা আঘাত করছে। যুদ্ধ যত এগোচ্ছে, ততই ইরানের কৌশল পরিষ্কার হয়ে উঠছে।
যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল ব্যবহার করছে। সেটি হলো, মার্কিন ও তাদের মিত্রদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার ধ্বংস করা। রাডার নষ্ট হয়ে গেলে আকাশে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়। ফলে ইরানের ছোড়া মিসাইল প্রতিহত করা অনেক সময় সম্ভব হয় না।
শুক্রবার (৬ মার্চ) পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি রাডার ধ্বংস করেছে ইরান।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রায় ৩০ কোটি ডলার মূল্যের এই রাডার ধ্বংস হওয়ায় ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে হামলা ঠেকানো কঠিন হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার ধ্বংস হয়ে গেছে।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। পাশাপাশি কুয়েতের আল-সালেম ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতেও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
থাড একটি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শত্রুপক্ষের মিসাইল শনাক্ত করে দ্রুত তা ধ্বংস করতে পারে। এটি তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে।
তবে ইরান এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজের অবস্থান সম্পর্কে কিছু গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া। তবে মস্কো ঠিক কতটা সহায়তা করছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে ইরানের তৈরি শাহেদ সিরিজের ড্রোন নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। এসব ড্রোন আকারে ছোট এবং তুলনামূলক কম খরচে তৈরি। অনেক সময় এগুলো রাডারে ধরা পড়ে না। তাই প্যাট্রিয়ট বা থাডের মতো উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সব সময় এসব ড্রোন আটকাতে পারছে না।
সময়ের আলো/আরবিএন