মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকায় সৌদি আরবে অবস্থানরত নিজেদের দূতাবাসের কিছু কর্মীকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় মার্কিন প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক নোটিশে জানায়, সৌদি আরবে কর্মরত দূতাবাসের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি জরুরি নয়, তাদের পাশাপাশি সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবারের সদস্যদেরও দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে ইরানের পক্ষ থেকে একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার কারণে দেশটিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সতর্কতামূলক এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের সৌদি আরব ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে তা নতুন করে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে আক্রমণ, সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দেশত্যাগে বিধিনিষেধের মতো বিষয়গুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানা ২১ দিন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেই সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ভেতরে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক অভিযান চালায়।
এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু ও মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোর দিকে একাধিক দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। গত সপ্তাহে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, দূতাবাস এবং তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে কয়েক দফা হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এএডি/