জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জাবিসাস) নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটির চার সদস্য। দাবি আদায়ে সংগঠনটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক উপাচার্যের কাছে চিঠি দিয়েছেন তারা। এতে সমিতির সদস্যদের তালিকায় অসঙ্গতি অভিযোগ আনা হয়েছে।
জানা গেছে, আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাবিসাস নির্বাচন। নির্বাচনের একদিন আগে সোমবার এ অভিযোগে তোলেন সমিতির সদস্য ও সমকালের প্রতিনিধি তারেক হোসেন, সময়ের আলোর প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান সাগর, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি সাকিব আহমেদ এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফুর রহমান।
উপাচার্যের কাছে দেওয়া চিঠিতে তারা দাবি করেন, কয়েকটি অনিবন্ধিত ও তুলনামূলকভাবে অল্প পরিচিত গণমাধ্যম- বিপ্লবী বার্তা, ব্রেকিংনিউজ ডটকম, ঢাকা টুডে ডটকম, দৈনিক মুক্ত সমাচার, ইনসাইট ঢাকা ও নিউজ ভিশনের প্রতিনিধিদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ মূলধারার কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সদস্য তালিকায় রাখা হয়নি।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বিতর্কিত সদস্য তালিকা প্রকাশের এক দিনের মাথায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি রিফাত বিন নুর, টাইমস অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি কে এম জাদিদ বিন খালিদ এবং বাংলাদেশ টুডের প্রতিনিধি নাজমুল হাসান সিয়াম সদস্যপদের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়া এবং সব মানদণ্ড পূরণ করলেও তাদের সদস্য করা হয়নি।
তারা আরও দাবি করেন, এতে সাংবাদিক সংগঠনের আড়ালে একটি ‘গুপ্ত’ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থে একটি ‘পকেট কার্যকরী কমিটি’ গঠনের চেষ্টা চলছে। এ অবস্থায় বিতর্কিত ভোটার তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন করলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং সংগঠনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অভিযোগকারীদের একজন বলেন, সোমবার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে৷ সেখানে সমঝোতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে শীর্ষ পদগুলো। নির্বাচন হবে কেবল কার্যকরী সদস্য পদে। এবার সমিতির সদস্য সংখ্যা ৩৬ জন। এ কারণে ১০ মার্চ অনুষ্ঠেয় সমিতির কার্যকরী পরিষদ নির্বাচন অবিলম্বে স্থগিত করতে উপাচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
চিঠির অনুলিপি সংগঠনটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক নাহিদ আখতারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবু সাঈফ মো. মুনতাকিমুল বারী চৌধুরী বলেন, আমি আবেদনপত্রটি পেয়েছি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অনিয়ম হয়ে থাকলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, তিনি এ ব্যাপারে সমিতির নেতৃবৃন্দ, নির্বাচন কমিশন ও উপদেষ্টার সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
এফআর