প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক এবং শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, জামদানি বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতীক। তিনি বলেন, ‘এক সময় বাংলার তাঁতশিল্প পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সমাদৃত ছিল। কিন্তু ঔপনিবেশিক শক্তির আঘাতে এই শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তারপরও তাঁতিদের ঐতিহ্য ও দক্ষতার কারণে জামদানি এখনো টিকে আছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক জামদানি ও কারুপণ্য মেলা-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম। এ ছাড়াও, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা দেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং এর সমৃদ্ধি বাড়াতে বহুমুখীকরণ, গবেষণা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে তিনি তাঁতিদের স্বার্থরক্ষা ও তাদের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথাও বলেন।
তিনি বলেন, ‘অনলাইন বিপণনের মাধ্যমে জামদানির বিক্রি বাড়ছে, তবে এটিকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক বাজারমুখী করতে হবে। একইসঙ্গে গবেষণা ও উন্নয়ন, ন্যাচারাল ডাই ব্যবহার এবং তাঁতিদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।
জামদানি বাংলাদেশের প্রথম ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য। এটি বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র এবং মসলিনের উত্তরসূরি। বর্ণ-বৈচিত্র্য আর নকশার ভিন্নতার জন্য জামদানি অপরুপ।
সময়ের আলো/এনএ