লম্বা সময় পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছে বাংলাদেশ। দিনের হিসাব করলে ৯৯ দিন পর লাল-সবুজের জার্সিতে মাঠে নেমেছে টাইগাররা। আর এদিনই তুলকালাম বাধিয়ে দিয়েছেন পেসার নাহিদ রানা। বাংলাদেশ প্রায় সাড়ে তিন মাসের মাথায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেও নাহিদের ফেরাটা আরও লম্বা সময়ের ব্যবধানে, সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০২৫ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। লম্বা সময় পর নামলেও নাহিদ নিজেকে ফিরে পেলেন দারুণভাবে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শুরুতেই বুধবার মিরপুরে দেখা গেল এক নতুন পেস নায়কের উত্থান। আগুনঝরা বোলিংয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথমবার ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট তুলে নিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। তার দুর্দান্ত স্পেলের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তান, মাত্র ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা।
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শুরুতে কিছুটা ধীরস্থিরভাবেই ব্যাটিং করছিল পাকিস্তান। কিন্তু আক্রমণে এসে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন নাহিদ। প্রথম ধাক্কাটা দেন সাহিবজাদা ফারহানকে (২৭) ফিরিয়ে দিয়ে। এরপর যেন একাই পাকিস্তানের টপঅর্ডার ভেঙে ফেলেন এই ডানহাতি পেসার।
পরপর শামিল হুসেইন (৪), মাআজ সাদাকাত (১৮), মোহাম্মদ রিজওয়ান (১০) ও সালমান আগাকে (৫) আউট করে পাকিস্তানকে বড় বিপদে ফেলেন নাহিদ। তার এই পাঁচটি উইকেটই ছিল পাকিস্তানের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের, যা বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে এক অনন্য কীর্তি। প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি বোলার প্রতিপক্ষের প্রথম পাঁচ ব্যাটারকে আউট করলেন একটি ইনিংসে।
শেষ পর্যন্ত সাত ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন নাহিদ। তার এই বিধ্বংসী স্পেলেই মূলত পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ তিনটি উইকেট নিয়ে তাকে দারুণভাবে সহায়তা করেন, আর একটি করে উইকেট পান তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।
নাহিদের এমন বিধ্বংসী বোলিংয়ে উচ্ছ্বসিত পেস বোলিং কোচ শন টেইট। ইনিংসের বিরতিতে এই টাইগার কোচ নাহিদকে ভাসান প্রসংসায়, ‘আমি মনে করি তার (রানা) নিজেকে প্রমাণ করার একটা তাগিদ আছে। সিরিজের প্রথম ম্যাচেই সুযোগ পাওয়া তার জন্য ভালো। এখন তাকে পারফরম্যান্স দিয়ে নির্বাচকদের দেখাতে হবে যে সে দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্য। যদি সে সুযোগ পেয়ে ভালো করে, তা হলে আশা করি সে আরও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। ধারাবাহিকভাবে এমন পারফরম্যান্স করলে তাকে আমরা আরও বেশি দেখতে পাব।
নাহিদের বিধ্বংসী বোলিংয়ের পর পাকিস্তানের হয়ে একমাত্র প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন ফাহিম আশরাফ। ৪৭ বলে ৩৭ রান করে তিনি দলকে একশ পার করান। তবে শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজুর রহমানের শিকার হয়ে ফিরলে পাকিস্তানের ইনিংস থামে ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানে। নাহিদের জন্য এটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের এক বড় মোড় ঘোরানো পারফরম্যান্স। প্রথম পাঁচ ম্যাচে মাত্র পাঁচটি উইকেট পাওয়া এই তরুণ পেসার ষষ্ঠ ম্যাচেই তুলে নিলেন পাঁচ উইকেট।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নিজের প্রথম পাঁচ ওভারের মধ্যেই তিনি এই পাঁচটি উইকেট শিকার করেন। এতে করে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট নেওয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি বোলারও হলেন নাহিদ। এর আগে ২০১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। নাহিদের এই কীর্তি মিরপুরেও একটি দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। প্রায় ১১ বছর পর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কোনো বাংলাদেশি পেসার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। সব মিলিয়ে এই পারফরম্যান্স শুধু একটি ম্যাচ জেতানোর গল্প নয় বরং বাংলাদেশের পেস আক্রমণে নতুন এক সম্ভাবনার শক্ত বার্তা হয়ে উঠল নাহিদ রানার আগুনঝরা স্পেল।
সময়ের আলো/আআ