আতঙ্ক কেটে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে দেশের শেয়ারবাজার। সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে। এর মাধ্যমে টানা তিন কার্যদিবস শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলল।
এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই দরপতন হয়। এতে এক সপ্তাহেই ডিএসইর প্রধান সূচক কমে ৩৫৯ পয়েন্ট। চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়। এক দিনে ডিএসইর প্রধান সূচক ২৩১ পয়েন্ট কমে যায়। তবে দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার সূচকটি ১৩২ পয়েন্ট বাড়ে। এরপর মঙ্গলবার বাড়ে ১৪৮ পয়েন্ট। এ পরিস্থিতিতে বুধবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ার তালিকায় থাকে বেশি প্রতিষ্ঠান। তবে বড় মূলধনের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমায় সূচকের বড় উত্থান হয়নি।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৮টির। আর ৫৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১০৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫৭টির দাম কমেছে এবং ৩৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৬২টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩টির এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৮টির এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত আছে। বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পরও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৯২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৮১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৩৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
প্রধান মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫২৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৯৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকার। ১৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রবি।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরি, ব্র্যাক ব্যাংক, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, ইনটেক লিমিটেড, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও লাভেলো আইসক্রিম। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৫০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৩টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
সময়ের আলো/আআ