ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সরকারি দল ও বিরোধীদল মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
দেশে বহু বছর কার্যকর সংসদের অভাব মানুষ চরমভাবে অনুভব করেছে। একতরফা শাসন, গৃহপালিত বিরোধী দল ও আংশিক নির্বাচনের কারণে জাতীয় সংসদ প্রায় অকার্যকর ছিল। তবে গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর সংসদে প্রাণ ফিরেছে।
এই গণতান্ত্রিক যাত্রায় জাতীয় সংসদে নেতৃত্ব দিচ্ছে অভিজ্ঞ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
সবার আশা, সংসদ সদস্যরা সংসদকে প্রাণবন্ত করে তুলবেন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে।
তবে প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সরকারি দল ও বিরোধীদলের মধ্যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সরকার বলেছে, প্রথা অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন।
অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতারা মন্তব্য করেছেন, রাষ্ট্রপতির সংসদে ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, রাষ্ট্রপতির অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। বিএনপি কেন এটি করছে, তা বোঝা যায় না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদে সরকারি দল বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ ও পুরনো রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।
এদিকে, সংসদে জামায়াত দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে চায়। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত দায়িত্বশীল বিরোধীদলের ভূমিকায় থাকবে। সব বিষয়ে বিরোধিতা নয়, আবার অযথা সমর্থনও নয়।
/ইউএমএইচ