বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ মানুষ চোখের নীরব ঘাতক ‘গ্লুকোমা’ রোগে আক্রান্ত। একই সঙ্গে আরও ৬০ লাখ মানুষ এই রোগের ঝুঁকিতে বা সন্দেহভাজন তালিকায় রয়েছেন। সব মিলিয়ে দেশের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ গ্লুকোমাজনিত সমস্যায় ভুগছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি নিরাময়যোগ্য নয়, তবে সঠিক সময়ে শনাক্ত হলে অন্ধত্ব ঠেকানো সম্ভব।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ গ্লুকোমা সোসাইটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সোসাইটির মহাসচিব ডা. শাহনাজ বেগম গ্লুকোমা রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের দেশব্যাপী এক জরিপ অনুযায়ী, ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সি বাংলাদেশিদের মধ্যে গ্লুকোমার প্রবণতা ৩.২ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে ৭৮ শতাংশই ‘ওপেন-এঙ্গেল’ গ্লুকোমার শিকার, যা বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আক্রান্তদের ৫০ শতাংশই জানেন না যে তারা এই রোগে ভুগছেন।
তিনি আরও বলেন, গ্লুকোমা বিশ্বে স্থায়ী অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ৮ কোটি মানুষ গ্লুকোমার শিকার, যাদের মধ্যে ৪৫ লাখ মানুষ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৪০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ১২ কোটিতে পৌঁছাবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে অন্ধত্বের কারণ হিসেবে ছানি প্রথম এবং গ্লুকোমা দ্বিতীয় কারণ। শুরুতে গ্লুকোমা রোগের কোনো লক্ষণ থাকে না বলে একে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। তবে রোগটি অগ্রসর হলে পার্শ্ববর্তী দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, চোখে ব্যথা হওয়া, চোখ লাল হওয়া কিংবা আলোর চারপাশে রংধনু বলয় দেখা যেতে পারে। চোখের ড্রপ, লেজার বা সার্জারির মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শাহাবউদ্দিন এবং মহাসচিব ডা. মো. জিননুরাইন (নিউটন) গ্লুকোমা রোগের ভয়াবহতা ও চিকিৎসা সম্পর্কে বক্তব্য দেন। এছাড়াও বাংলাদেশ গ্লুকোমা সোসাইটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক এম নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক মো. আরিফ মিয়া, ডা. এম জিয়াউল করিম, অধ্যাপক ডা. হাসান শহীদ ও অধ্যাপক ডা. জাকিয়া সুলতানা সহীদ, বারডেম হাসপাতালের দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. অরুপ রতন চৌধুরী ও শাহজাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম শাহি আলম গ্লকোমা রোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এফআর