এর আগে গত ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়ে পরে তা রোববার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। শনিবার (১৪ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এই প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
এই অধিবেশনের প্রথম দিনে দেওয়া রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সংসদে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন-এর ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা।
প্রথম অধিবেশনের শুরুতে বক্তব্য দেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন-কে সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তার সভাপতিত্বেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ গ্রহণ করেন। ওইদিন দুপুর ১২টার পর জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।
নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) অধিবেশনে শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করেন। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংসদের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।
সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে।
এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গতকাল শনিবার সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠকে। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এমপি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যসূচি সম্পন্ন করার জন্য সময় বণ্টন ও অধিবেশনের মেয়াদ নিয়ে আলোচনা হয়।
কমিটির সদস্য, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া কমিটির সদস্য বিরোধীদলীয় নেতা মোঃ শফিকুর রহমান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, বিরোধীদলের চিফ হুইপ মোঃ নাহিদ ইসলাম এবং মুহাম্মদ নওশাদ জমির উপস্থিত ছিলেন।
স্পিকারের বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রয়োজনে অধিবেশনের সময়সূচি ও কার্যদিবস সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় পরিবর্তনের ক্ষমতা স্পিকারকে দেওয়া হয়েছে।
এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য আটটি এবং অন্যান্য মন্ত্রীর জন্য ৪৬০টি প্রশ্নসহ মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন জমা পড়েছে। বিধি-৭১ অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের ২৭টি নোটিশ পাওয়া গেছে। এছাড়া সিদ্ধান্ত প্রস্তাব (বিধি-১৩১) হিসেবে ৯৭টি নোটিশ জমা পড়েছে।
গতকালের বৈঠকে সচিবালয়গত সহায়তা প্রদান করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।