জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই দুই মন্ত্রীর কাছে লিখিত ৬ প্রশ্নটি রেখেছেন সংসদ সদস্যরা। সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী প্রথম দিনে কোনো প্রশ্নোত্তর ছিল না।
রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টায় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। তখন লিখিত প্রশ্নের উত্তর দেন দুই মন্ত্রী।
প্রশ্নগুলো ছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কাছে।
প্রথম প্রশ্ন করেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি প্রশ্ন করেন, সারাদেশে সরকারিভাবে নতুন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা আছে কিনা, থাকলে কবে নাগাদ বাস্তবায়িত হবে?
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন লিখিত উত্তরে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বর্তমান সরকার এগুলোর মানোন্নয়নের বিষয়ে বদ্ধপরিকর। সরকার নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন দ্বিতীয় প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমার নির্বাচনি সরকারিভাবে টেকনিক্যাল/ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা, থাকলে তা কবে নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে?
লিখিত উত্তরে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন ‘উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (২য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রতি উপজেলায় একটি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর এলাকায় এ মুহূর্তে সরকারিভাবে টেকনিক্যাল/ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা নেই। তবে আপনার নির্বাচনি এলাকার নিকটবর্তী ঢাকার পূর্বাচলে ১টি টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এবং ১টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের লক্ষ্যে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে জমি বরাদ্দের জন্য পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। ভূমি বরাদ্দ পাওয়া গেলে পূর্বাচলে একটি টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও একটি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন করা হবে।
এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের তৃতীয় প্রশ্ন রেখে বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৮ এ সরকারি খাস জমি উদ্ধারকল্পে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভাড়াভিত্তিক আবাসন প্রকল্পের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা, থাকলে তা কবে নাগাদ বাস্তবায়িত হবে?
লিখিত জবাবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৮ এ সরকারি খাসজমি উদ্ধারকল্পে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বর্তমানে কোনো কার্যক্রম বা পরিকল্পনা নেই। কারণ খাস জমিসংক্রান্ত
কার্যক্রম ভূমি মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত।
তবে স্থানীয় জনগণের চাহিদা, আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এবং সরকারি খাস জমি/অধিগ্রহণ করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে প্রদান সাপেক্ষে সম্ভাব্যতা (Feasibility Study/Market Study) উপযোগী প্রতীয়মান হলে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভাড়াভিত্তিক নতুন আবাসিক প্রকল্প সরকারি অর্থায়নে গ্রহণ করা যেতে পারে।
নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু প্রশ্ন রেখে বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকা নওগাঁ-৪ মান্দা উপজেলায় সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (কলেজ ও হাইস্কুল) কয়টি, এর মধ্যে কোনো নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে কিনা, থাকলে তা কোনো মহিলা কলেজ বা স্কুল অ্যান্ড কলেজ সরকারিকরণের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা, থাকলে তা কত দিনে করা হবে?
আ ন ম এহছানুল হক মিলন লিখিত উত্তরে বলেন, মান্দা উপজেলায় ১টি (এক) সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ (গোটগাড়ী শহিদ মামুন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ) এবং একটি (এক) সরকারি কলেজ (মান্দা) মোমিন শাহানা সরকারি ডিগ্রি কলেজ)-এ মোট দুইটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মান্দা উপজেলায় বর্তমানে নিম্ন মাধ্যমিক হতে স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত নারীদের জন্য পৃথক কোনো সরকারি নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে প্রতি জেলায় একটি করে সরকারি মহিলা কলেজ ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। সরকার প্রয়োজনীয়তার নিরিখে উপজেলা পর্যায়ে মহিলা কলেজ বা স্কুল অ্যান্ড কলেজ অথবা যে কোনো পর্যায়ের নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
আরও পড়ুন
সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু প্রশ্ন রেখে বলেন, নির্বাচনি এলাকা ৪৯, নওগাঁ-৪ মান্দা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মধ্যে বিগত ১০ বছরে যেগুলোতে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয় নাই এবং যে সব বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করা হচ্ছে সেখানে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে কিনা, হলে তা কত দিনে করা হবে?
জবাবে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, মান্দা উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৮টি, তন্মধ্যে ১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। উল্লেখ্য, ঝুকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের ভবন উন্নয়নের জন্য ‘জরাজীর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ১৭টি বিদ্যালয়কে ভবন উন্নয়ন করার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। উক্ত প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে এবং তা প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু প্রশ্ন রেখে বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকা নওগাঁ-৪ মান্দা উপজেলায় এমপিওভুক্ত এবং একাডেমিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মাদরাসার সংখ্যা কত; এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে বহুতলবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; থাকলে তা কত দিনে বাস্তবায়ন করা হইবে?
জবাবে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, নির্বাচনি এলাকা ৪৯, নওগাঁ-৪ মান্দা উপজেলায় এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ৩০টি এবং একাডেমিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মাদরাসা ৩১টি (এমপিওসহ)। মান্দা উপজেলায় মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন নির্বাচিত মাদ্রাসাসমূহের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৬টি এমপিওভুক্ত মাদরাসায় ৪ তলা ভিত বিশিষ্ট ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৫টি মাদরাসা ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। একটি মাদরাসার ভবন নির্মাণ কাজ চলমান আছে। ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে। মান্দা উপজেলায় প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের আওতায় আরও ৫টি মাদরাসায় বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
সময়ের আলো/আআ