ট্রেনে টিকিট কেটে সিট না পাওয়ার অভিযোগ, দূরপাল্লার বাসে চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

শেষ কর্মদিবস শেষে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের বাড়িতে রওনা হয়েছেন। সে

2026-03-16T22:47:04+00:00
2026-03-16T22:47:04+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
ট্রেনে টিকিট কেটে সিট না পাওয়ার অভিযোগ, দূরপাল্লার বাসে চাপ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
শেষ কর্মদিবস শেষে বাড়ি ফিরছেন মানুষ।  চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের বাড়িতে রওনা হয়েছেন। সে কারণে বিকেলের পর টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে।

গত তিনদিন ঘরমুখো মানুষের ট্রেনযাত্রায় তেমন ভিড় দেখা যায়নি। বাড়তি ভিড় না থাকায় অনেকটা স্বস্তি ও আনন্দদায়ক পরিবেশে বাড়ি ফিরেছেন তারা। তবে আজ সেই চিত্র কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে। গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ট্রেনগুলোর পাশাপাশি সবগুলো প্লাটফর্মে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাত ৮টায় লালমনি, রংপুর, কুড়িগ্রাম, বুড়িমারীর উদ্দেশে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ছেড়ে গেছে। 

উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশে যাত্রা করা এই ট্রেনে ঠেসে ঠেসে চড়ে গন্তব্যে ছুটছেন ঘরমুখো মানুষ। যাত্রীদের চাপে অতিরিক্ত বগি দেওয়া সত্ত্বেও অনেকে টিকিট নিয়ে নিজ বগিতে চড়তে পারেননি। গেটে ঝুলে ঝুলে যেতে দেখা গেছে অনেককে। তবে ট্রেনের ছাদে চড়ে কাউকে যেতে দেয়নি স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

এদিকে অনেকের অভিযোগ টিকিট কেটে নির্দিষ্ট আসন খুঁজে না পেলেও নির্ধারিত ট্রেনে চড়তে পেরেছেন। আবার নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছেড়ে দেওয়ায় অনেকে টিকিট কেটেও ট্রেনে উঠতে পারেননি। 

ট্রেন মিস করায় অভিযোগ করে যাত্রীরা বলেন, সবসময় দেখেছি নির্ধারিত সময়ের ১০-১৫ মিনিট পরে ট্রেন ছেড়ে যায়। আজ একটুও দেরি করলো না। আমরা ৩ জনই অগ্রিম টিকিট কেটেছিলাম, অল্প সময়ের জন্য ট্রেন মিস করলাম। এখন বাসে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। খরচও দ্বিগুণ হবে, আর কষ্টও বেশি। 

শুধু কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নয়, প্রতিটি ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছানো যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তুষ্টি লক্ষ্য করা গেছে। তবে যাত্রীদের অনেকেই টিকিট কেটেও নিজের আসনে পৌঁছাতে পারেননি। কিংবা নির্ধারিত বগি খুঁজে পাননি।

এদিকে সরকারি ও আধা সরকারি অফিস-আদালতে ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার। সে হিসাবে সোমবারই ছিল ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস। এদিন অনেকে অফিস শেষে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন।

দুপুরের পর থেকে রাজধানীর প্রধান বাস টার্মিনালগুলোতে ধীরে ধীরে ঈদযাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। ইফতার শেষে সন্ধ্যার পর সেই চাপ আরও কিছুটা বেড়েছে। 


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে দূরপাল্লার কিছু কিছু বাস কাউন্টারে টিকিট সংগ্রহের জন্য যাত্রীরা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। কিছু কিছু পরিবহনের টিকিট পাওয়া না গেলেও বেশিরভাগ পরিবহনেরই আজ সহজে টিকিট মিলছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী গাবতলী, কল্যাণপুর বাস টার্মিনাল থেকে পাওয়া তথ্যে ঈদযাত্রার এমন চিত্র উঠে এসেছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, এসব টার্মিনালের টিকিট কাউন্টারগুলোতে ভিড় করছেন ঘরমুখো মানুষ। যারা টিকিট সংগ্রহ করেছেন তারা নির্দিষ্ট গাড়ির অপেক্ষায় কাউন্টারে বসে সময় গুনছেন। যারা টিকিট কাটতে পারেননি তারা টিকিটের জন্য কাউন্টারগুলোর সামনে ভিড় করছেন। অধিকাংশ দূরপাল্লার যাত্রীরা আজ কাউন্টারে সহজে টিকিট পাচ্ছেন। আবার কোনো কোনো পরিবহনের গাড়িতে দেখা গেছে আসন সংকটও।

কোনো কোনো কাউন্টারে দেখা গেছে বিপরীত চিত্রও। সেসব কাউন্টারে টিকিটের জন্য যাত্রীর চাপ অনেকটাই কম। সেখানকার দায়িত্বরত পরিবহন শ্রমিকেরা যাত্রীর খোঁজে হাঁকডাক ছাড়ছেন। 

সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাস টার্মিনালগুলো ঘিরে আশপাশের সড়কে তৎপরতা দেখা গেছে। পাশাপাশি টার্মিনালগুলোতে র‍্যাব ও পুলিশ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নজরদারি করতেও দেখা যায়

গাবতলী বাস টার্মিনালে সাকুরা এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার মাস্টার বলেন, আজকে আমাদের ১৩টি গাড়ি গাবতলী থেকে ছেড়ে গেছে। কোনো গাড়িতেই আসন ফাঁকা ছিল না। রাত ১২টায় আরেকটি গাড়ি আছে, সেটিতেও আসন ফাঁকা নেই। কেউ চাইলে ইঞ্জিন কাভারে বসে যেতে পারবেন। এখন পর্যন্ত মোটামুটি যাত্রীর চাপ আছে।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের ভোগান্তি নেই বললেই চলে। আগে ঈদের সময় টার্মিনালে পা রাখা যেতো না। একপাশ থেকে অন্যপাশে যেতে এক ঘণ্টা সময় লাগতো। যাত্রীদেরও কষ্টের সীমা ছিল না। এখন ঈদযাত্রীরা আরামে টিকিট সংগ্রহ করে ভ্রমণ করতে পারছেন। টার্মিনালেও তেমন জটলা নেই।

হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার মাস্টার বলেন, গত দু-তিন দিনের তুলনায় আজ যাত্রীর চাপ কিছুটা বেশি। তবে খুব বেশি নয়। অতিরিক্ত গাড়ি ছেড়ে যাওয়ার মতো যাত্রী নেই। যে পরিমাণ যাত্রী আসছে তাতে শিডিউলের গাড়িগুলোই যথেষ্ট। তবে কোনো গাড়িতেই আসন ফাঁকা থাকছে না। 

জানতে চাইলে এসপি গোল্ডেন লাইনের কাউন্টার মাস্টার রেজাউল করিম বলেন, যাত্রীর চাপ খুব একটা বাড়েনি। স্বাভাবিকই আছে। তবে গত দু-তিনদিনের তুলনায় আজ কিছুটা বেশি। আমাদের অধিকাংশ গাড়িই সিট ফাঁকা রেখে ছেড়ে যাচ্ছে। আমরা আজকেও যাত্রী খুঁজছি।

তিনি বলেন, টার্মিনালে যে যাত্রীরা আছেন সবাই টিকিটের যাত্রী। আজ অতিরিক্ত যাত্রী তেমন নেই। আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে যাত্রীর চাপ বাড়বে। তখন অনেকে টিকিট পাবে না। অনেকের টিকিটের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে।


সময়ের আলো/এআর


  বিষয়:   ট্রেন  টিকিট  সিট  দূরপাল্লা  বাস 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: