কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে সারা দেশে নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনর্খনন কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল পুনর্খননের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
একই সঙ্গে দেশের ৫৩টি জেলায় একযোগে খাল পুনর্খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনর্খনন করা হবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সমর্থন থাকলে যেকোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বামনসুন্দর খাল পুনর্খনন উদ্বোধনকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, খাল পুনর্খনন হলে বাংলাদেশের কৃষি ও অর্থনীতির চিত্র বদলে যেতে পারে।
তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ফেনীতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বন, পরিবেশ ও জলবায়ুমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, খাল খনন না করলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা বাড়বে এবং বন্যার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, খালগুলো ঠিক করে নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা গেলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হবে এবং সেচব্যবস্থা উন্নত হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে দমদমা খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই বর্তমান সরকার আবারও সারা দেশে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করেছে।
তিনি বলেন, খাল খননের মাধ্যমে কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করা এবং দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ রাখা সম্ভব হবে।
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় বিল লতা খালের বেলগাপুর থেকে জুলুপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের বাস্তবায়নে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই কাজ সম্পন্ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নওগাঁ ধান উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। খাল খননের মাধ্যমে এই অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় উখিয়ারঘোনায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি বলেন, খাল দখল ও বর্জ্য ফেলে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে অনেক এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। খাল পুনরুদ্ধার ও পুনর্খনন করলে এসব সমস্যা দূর হবে এবং কৃষি ও মৎস্য খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
জেলা প্রশাসন জানায়, খাল পুনর্খননের ফলে প্রায় তিন মিটার গভীরতা তৈরি হবে এবং এতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় মানিকদহ ইউনিয়নের বলেরবাগ থেকে সোনাখোলা ব্রিজ পর্যন্ত খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের কৃষিতে নতুন করে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। এই কর্মসূচির সুবিধা দল-মত নির্বিশেষে সবাই পাবেন।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় কুতুবপুর স্বনির্ভর খালের প্রায় দুই কিলোমিটার পুনর্খনন কাজ উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, খাল খনন প্রকল্প কোনো ঠিকাদার বা প্রকৌশলীর অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হতে পারে না। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণকেও নজরদারির আহ্বান জানান তিনি।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরপরই সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তবে এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য খাল দখলমুক্ত রাখা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।