মুসলমানদের সর্বোচ্চ উৎসব ঈদ ঘিরে আমেজের যেন কমতি নেই কোথাও। আর সেই আনন্দের মাত্রা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয় নতুন জামা। এ ছাড়া নতুন জামার সঙ্গে ধর্মীয় ঐতিহ্যের চাহিদায় শীর্ষে থাকে টুপি। একই সঙ্গে পাঞ্জাবিতে মৃদু সুবাস ছড়াতে বাড়ে বাহারি রকমের আতরের চাহিদাও। ফলে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীতে টুপি ও আতরের বাজারে জমে উঠেছে কেনাবেচা। এ চাহিদার কারণে ছোট-বড় সব দোকান মিলিয়ে ঈদ মৌসুমে প্রতিদিনই এই খাতে ১৪ থেকে ১৫ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিন রাজধানীর গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম ও পীর ইয়ামেনি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে কেনাকাটার চাপ। যদিও বিক্রেতাদের অভিজ্ঞতা মিশ্র-কেউ সন্তুষ্ট, কেউ আবার প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি না হওয়ায় হতাশ।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের কাছাকাছি সময় হওয়ায় আতর ও টুপি বিক্রি তুঙ্গে উঠেছে। ছোট দোকানগুলোতে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বিক্রি হলেও বড় পাইকারি দোকানগুলোতে লেনদেন হচ্ছে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত।
আতর কিনতে আসা সাইদুল ইসলাম বলেন, বেশ কিছু দোকান ঘুরে দেখলাম। গত বছর যে দামে কিনেছি তার চেয়ে বেশি দাম চাচ্ছে। আতর তো কেনাই লাগবে, দামাদামি করে যেখানে কম পাব সেখান থেকেই নেব।
টুপি বিক্রেতা সোহেল মিয়া বলেন, বিক্রি তো ভালোই হচ্ছে। ক্রেতার চাপ একা সামাল দিতে পারছি না। আশা করি, আজ ১৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা বিক্রি হবে।
বাজারে ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের টুপি পাওয়া যাচ্ছে। দেশি টুপির পাশাপাশি পাকিস্তানি টুপির চাহিদা বেশি লক্ষ করা গেছে। এ ছাড়া আতরের দাম মানভেদে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, শবে বরাতের আগেই টুপি তৈরির কাজ শুরু হয় এবং রমজানের মাঝামাঝি পর্যন্ত তা চলতে থাকে। এরপর ঈদ কেন্দ্র করে খুচরা বাজারে বিক্রি বাড়ে। দেশের বিভিন্ন জেলায় উৎপাদিত টুপি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। তবে টুপি ও আতরের বাজার জমজমাট থাকলেও তসবিহ ও জায়নামাজের বাজারে তুলনামূলক মন্দাভাব দেখা গেছে। ক্রেতাদের আগ্রহ কম থাকায় বিক্রিও কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
জানা যায়, আতরের মধ্যে রয়েছে হোয়াইট, এলিটো, কোরাইশি, সুরগতি, ওদ, চকোলেট মাক্স সুলতান, আমির আল কুয়াদিরাজা ওপেন, জান্নাতুল ফেরদৌস, রয়েল, ওরেঞ্জ, সফট, লর্ডনিভিয়া মেন, রয়েল ম্যাবরেজজপি ও রাসা। এ ছাড়া ফিগো, হ্যাভোক, সিকোওয়ান, ইস্কেফ, গোল্ডেন সেন্ট নামেও আতর বিক্রি হচ্ছে।
সময়ের আলো/আআ