ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায়ের তেমন কোনো অভিযোগ নেই বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম।
শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীতে মালিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল আলম বলেন, যদি গোপনে কোনো শ্রমিক বা দালাল বাড়তি ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করে, তবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, টার্মিনালের ভেতরে শৃঙ্খলা থাকলেও বাইরে থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সংবাদ সম্মেলনে যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করেন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ।
তারা অভিযোগ, মোজাম্মেল হক ঈদ যাত্রায় ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি ভাড়ার যে দাবি করেছেন, তা সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই তথ্যের সপক্ষে প্রমাণ দিতে না পারলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন পরিবহন নেতারা।
এর আগে বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ঈদযাত্রাকে ঘিরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা গত দুই দশকের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাস-মিনিবাসসহ বিভিন্ন গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের ঘটনা ব্যাপকভাবে ঘটছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের সিটি বাসেও ইতোমধ্যে এই প্রবণতা শুরু হয়েছে। নৌপথের অধিকাংশ রুটেও একই চিত্র দেখা গেলেও এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।
সমিতির হিসাব অনুযায়ী, দূরপাল্লার যাত্রীদের কাছ থেকে গড়ে ৩৫০ টাকা করে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হলে মোট প্রায় ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বাড়তি আদায় হতে পারে। অন্যদিকে সিটি বাসে গড়ে ৫০ টাকা অতিরিক্ত নেয়া হলে আরও প্রায় ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা যোগ হবে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
সময়ের আলো/আআ