ইরানের আকাশসীমায় যুদ্ধ মিশন পরিচালনার পর যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-৩৫ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানা গেছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। এই ঘটনার পর স্টেলথ যুদ্ধবিমানও ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল/ইনফ্রারেড (ইও/আইআর) সেন্সর ব্যবস্থার মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব বলে মনে করছেন চীনা সামরিক বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে এই যুদ্ধবিমান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ২০টি দেশের কাছে রয়েছে। এর অন্যতম অপারেটর ইসরায়েল এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েল তার এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলোকে ব্যাপকভাবে ব্যবহারও করছে। এফ-৩৫ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নেটওয়ার্ক কেন্দ্রিক যুদ্ধ পরিচালনায় সুদক্ষ।
এ প্রেক্ষাপটে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ইউ গ্যাং বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এফ-৩৫টি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মৌলিক সক্ষমতা বজায় রেখেছিল।’
তেহরান প্রকাশিত ইনফ্রারেড চিত্রের ভিত্তিতে তিনি বলেন, ‘বিমান-বিধ্বংসী কামানের গোলায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। যদি এটি রুশ নির্মিত এস-৩০০ এর মতো প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতো, তবে বিমানটি আর ফিরে আসতে পারত না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাডার-নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, ইনফ্রারেড নয়। আর সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এত শক্তিশালী যে আঘাত করলে সাধারণত বিমানটি আর ফেরত যাওয়ার মতো অবস্থায় থাকে না।’
তিনি ধারণা করেন, এফ-৩৫ বিমানটির বিরুদ্ধে ইরানের হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্ভবত ইনফ্রারেড-নির্দেশিত একটি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, যেটিকে ইরানিরা মডিফাই বা পরিবর্তন করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য করেছে।
ইউ গ্যাংয়ের মতে, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তি মূলত রাডারের তড়িৎচৌম্বকীয় ওয়েভ শনাক্তকরণ এড়ানোর জন্য তৈরি, তবে ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল/ইনফ্রারেড সেন্সরের মাধ্যমে বিমানের ইঞ্জিন নির্গত তাপ শনাক্তক করা হয়, যেটি এড়ানোর এফ-৩৫ এর সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ইও/আইআর প্রযুক্তির সাহায্যে বিমানের চলাচল থেকে উৎপন্ন তাপও শনাক্ত করা হয়।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, ইনফ্রারেড শনাক্তকরণের পরিসর রাডারের তুলনায় অনেক কম।
সময়ের আলো/কেএইচও