ঈদের ছুটি শেষে সরকারি-বেসরকারি অফিসে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরলেও বন্ধ আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। টানা ছুটির পর আগামী রোববার (২৯ মার্চ) থেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন শিক্ষার্থীরা।
তবে পবিত্র রমজান ও ঈদের এই দীর্ঘ ছুটির ফলে শিক্ষার্থীদের যে ‘শিখন ঘাটতি’ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে শিক্ষা প্রশাসনের। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লাস নেয়ার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের রমজানে ছুটির সূচি নিয়ে বেশ কিছু নাটকীয়তা তৈরি হয়েছিল। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ রমজান পর্যন্ত স্কুল খোলা রাখার কথা থাকলেও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি ও অসন্তোষ দেখা দেয়। পরবর্তী সময়ে শিক্ষকদের দাবি ও বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন পুরো রমজান মাসজুড়ে ছুটি ঘোষণা করেন।
মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ ছুটির কারণে পাঠ্যসূচি শেষ করা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার যে ‘গ্যাপ’ তৈরি হয়েছে, তা কীভাবে সমন্বয় করা যায় সেটি নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, ছুটি সমন্বয় করা হবে নাকি সাপ্তাহিক ছুটির দিন বা অন্য কোনো সময়ে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তবে দু-এক দিনের মধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন।
উল্লেখ্য, ছুটি ঘোষণার সময়ই শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার বিকল্প পরিকল্পনা তাদের হাতে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চলতি সপ্তাহে অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা আসতে পারে। আপাতত রোববারের অপেক্ষায় আছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা, যখন দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মুখরিত হবে স্কুল-কলেজ প্রাঙ্গণ।
সময়ের আলো/আআ