আজ সেই ভয়াল কালরাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

আজ ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিন শেষে নেমে এসেছিল বাঙালির ইতিহাসের এক বিভীষিকাময় রাত। মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি

2026-03-25T00:26:56+00:00
2026-03-25T00:26:56+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
আজ সেই ভয়াল কালরাত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৬ এএম 
সংগৃহীত ছবি
আজ ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিন শেষে নেমে এসেছিল বাঙালির ইতিহাসের এক বিভীষিকাময় রাত। মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের পূর্বপরিকল্পিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নীলনকশা অনুযায়ী রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। লক্ষ্য ছিল বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া।

যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাণী প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হবে।

দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে ২৫ মার্চের গণহত্যা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে স্মৃতিচারণা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া দুপুর ১২টা থেকে ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় মিনিপোস্টারে গণহত্যাবিষয়ক বস্তুনিষ্ঠ ও দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে।

বাদ জোহর অথবা সুবিধাজনক সময়ে ২৫ মার্চের রাতে নিহতদের স্মরণে সারা দেশের মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। তবে কেপিআই ও জরুরি স্থাপনাগুলো এ কর্মসূচির বাইরে থাকবে। ২৫ মার্চ রাতে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না। সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ব্যবস্থাপনায় সেমিনারের আয়োজন করা হবে।

বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা দমিয়ে দিতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করে। এরপর নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ২৫ মার্চ রাতে ব্যাপক গণহত্যা চালিয়ে বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী যে অভিযান চালায়, তার নাম ‘অপারেশন সার্চলাইট’।

এই অভিযানের নির্দেশনামা তৈরি করেন পাকিস্তানের দুই সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ও মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলি। কোনো লিখিত নথি রাখা হয়নি; মুখে মুখেই সংশ্লিষ্ট কমান্ডারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০১২ সালে খাদিম হোসেন রাজা তার আত্মজীবনী এ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওন কান্ট্রি গ্রন্থে প্রথমবারের মতো অপারেশন সার্চলাইট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন।

তিনি লিখেছেন, ১৭ মার্চ সকাল প্রায় ১০টায় টিক্কা খান তাকে ও রাও ফরমান আলিকে কমান্ড হাউসে ডাকেন। সেখানে জেনারেল আবদুল হামিদ খানও উপস্থিত ছিলেন। 

টিক্কা খান জানান, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান চান শেখ মুজিবের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হোক। পরদিন ১৮ মার্চ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই খাদিম হোসেন রাজা ও রাও ফরমান আলি অভিযানের নাম দেন ‘অপারেশন সার্চলাইট’।

মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন লিখেছেন, ‘সে রাতে ৭ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, গ্রেফতার করা হয় আরও ৩ হাজার মানুষকে। ঢাকায় যা শুরু হয়েছিল, তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো পূর্ব পাকিস্তানে। ঘরবাড়ি, দোকানপাটে আগুন দেওয়া হয়; লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞে মেতে ওঠে সেনারা।’

গণহত্যার স্বীকৃতি পাকিস্তান সরকারের প্রকাশিত দলিলেও রয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের সংকট নিয়ে প্রকাশিত শ্বেতপত্রে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

ঢাকার ইপিআর সদর দফতর পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও নীলক্ষেত এলাকায় মধ্যরাতে শুরু হয় ভয়াবহ হামলা। ট্যাঙ্ক ও মর্টারের গোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। মেশিনগানের গুলি, ট্যাঙ্কের গোলা ও অগ্নিকাণ্ডে নগরীর রাত হয়ে ওঠে বিভীষিকাময়।

সিদ্দিক সালিক তার উইটনেস টু সারেন্ডার গ্রন্থে লিখেছেন, ‘নির্ধারিত সময়ের আগেই সামরিক কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। নরকের দরজা উন্মুক্ত হয়ে গেল।’

পাকিস্তানি হানাদারদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাননি রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও। 

ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মনিরুজ্জামানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৯ শিক্ষককে হত্যা করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে চলে নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ।

অভিযানের আগে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান গোপনে ঢাকা ত্যাগ করে করাচি চলে যান। 

সেনা অভিযানের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের আগে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানার ইপিআর সদর দফতর এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স। জগন্নাথ হলে সেই রাতে শুধু লাশ আর লাশ পড়ে ছিল। ক্যান্টিনকর্মী সুনীল কুমার দাসের ভাষায়, ‘শহিদ মিনারের পাশে কত লাশ ছিল, তার হিসাব নেই।’

স্বাধীনতার অর্ধশতক পেরিয়েও ওই সময়কার বহু গণহত্যার ঘটনা এখনও পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। আন্তর্জাতিকভাবে এই গণহত্যার স্বীকৃতিও এখনও মেলেনি। ২০১৭ সালের ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ২৫ মার্চকে জাতীয়ভাবে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

সময়ের আলো/আরবিএন 



  বিষয়:   মার্চ  গণহত্যা  দিবস  বাঙালি  ইতিহাস  পাকিস্তান 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: