সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ব্যস্ততা শেষে এবার আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের মঞ্চে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার মিশনে নামছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। আজ ভিয়েতনামের মাঠে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে জামাল ভূঁইয়ারা। র্যাঙ্কিং ও শক্তিমত্তায় ভিয়েতনাম বেশ এগিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে ছেড়ে কথা বলতে নারাজ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার শিষ্যরা। বিদেশের মাটিতে এই কঠিন পরীক্ষা দিয়ে নিজেদের আত্মবিশ্বাস ফেরানোই এখন লাল-সবুজ জার্সিধারীদের মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশ দলের শক্তির মূল উৎস হামজা চৌধুরীর দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এ লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশি। ম্যাচের আগে এক দিনের অনুশীলন সেশনে অংশ নেওয়া হামজা মাঠে নামবেন কি না সেটি নিয়ে বেশ শঙ্কা রয়েছে।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা জানিয়েছেন, ভিন্ন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগবে তার। ক্যাবরেরা বলেন, ‘হামজা গতকাল (মঙ্গলবার) বিকালে এসে পৌঁছেছে। সে ভালো আছে, তবে আবহাওয়া ও সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগবে। আমরা তাকে পর্যবেক্ষণ করে ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা বিবেচনা করব।’
কোচের কথায় বোঝাই যাচ্ছে যে হুট করে হামজাকে না-ও খেলাতে পারেন তিনি। সামনে যেহেতু এএফসি এশিয়ান বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সেই কথা চিন্তা করে হামজাকে বিশ্রামেও রাখতে পারেন কোচ। তবে ভিয়েতনাম এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হলেও তাদের রুখে দেওয়ার সামর্থ্য বাংলাদেশের আছে।
যদিও র্যাঙ্কিংয়ের হিসেবে অনেক এগিয়ে ভিয়েতনাম। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৮১তম স্থানে থাকা বাংলাদেশের সামনে আজ ১০৩ নম্বর দলটির চ্যালেঞ্জ। স্বাগতিকদের মাঠে এই লড়াই কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার শিষ্যদের জন্য নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের এক অগ্নিপরীক্ষা।
ক্যাবরেরা বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আসন্ন আনুষ্ঠানিক ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। ভিয়েতনামের মুখোমুখি হওয়া আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল। তাদের বিপক্ষে খেলা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। জুয়ান সনের উপস্থিতি এবং দলে আরেকজন ব্রাজিলীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় (হোয়াং হেন) থাকায় ভিয়েতনামের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী লাইনআপ রয়েছে। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ ভিয়েতনামের সম্ভাব্য শক্তিশালী দলের মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।
দলের কান্ডারি জামাল ভূঁইয়া মাঠের লড়াই নিয়ে বেশ আশাবাদী। দীর্ঘ ভ্রমণ ক্লান্তি কাটিয়ে দলের সবাই এখন পূর্ণ ফিট বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের মধ্যে সমন্বয় ধরে রাখাই এই ম্যাচে সাফল্যের চাবিকাঠি বলে মনে করেন অধিনায়ক। জামাল বলেন, ‘এটি একটি কঠিন ম্যাচ হবে, কিন্তু বাংলাদেশ উন্নতি করছে। আমরা বিশ্বাস করি, ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য আমাদের আছে।’
এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভিয়েতনামের উইঙ্গারদের গতি সামলানো। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দল রক্ষণভাগে কিছুটা নড়বড়ে থাকলেও গোলপোস্টের নিচে মিতুল মারমার ফর্ম কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে কোচকে। যদিও প্রতিপক্ষ ভিয়েতনাম তাদের ঘরের মাঠে সমর্থকদের বিশাল সমর্থন পাবে, তবে বাংলাদেশ দল তাদের বর্তমান লড়াকু মানসিকতা বজায় রাখতে পারলে একটি উপভোগ্য লড়াইয়ের প্রত্যাশা করছে ফুটবলপ্রেমীরা।
সময়ের আলো/আআ