মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবারের (২৬ মার্চ) সকালটা যেন ফিরে গিয়েছিল সোনালি অতীতে। ব্যাট-বলের লড়াইয়ে আবারও মাঠে নামলেন দেশের সাবেক তারকারা, প্রীতি ম্যাচ হলেও ছিল প্রতিযোগিতার চাপ, আবেগ, স্মৃতি আর ক্রিকেটপ্রেমের এক অনন্য উৎসব।
স্বাধীনতা দিবসের প্রীতি ম্যাচ ঘিরে ‘হোম অব ক্রিকেট’ যেন পরিণত হয়েছিল এক মিলনমেলায়, যেখানে পুরোনো দিনের ঝলক আবারও প্রাণ ছুঁয়ে গেল গ্যালারি আর ড্রেসিংরুম।
এই আনন্দঘন ম্যাচেই ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন মোহাম্মদ রফিক ও নাসিরউদ্দিন ফারুক সজীব। আর বল হাতে ঘূর্ণির জাদু দেখিয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নিলেন রফিক ও ইলিয়াস সানি। তাদের দাপটে বিসিবি সবুজ দলকে ১২৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বিসিবি লাল দল।
প্রতি বছরের মতো এবারও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে এই প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করে বিসিবি। দেশের ইতিহাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে সবুজ দলের ক্রিকেটাররা পরেন ২৬ নম্বর জার্সি, আর লাল দলের গায়ে ছিল ৭১ নম্বর। দুটি সংখ্যাই বাংলাদেশের ইতিহাসে গভীর তাৎপর্য বহন করে।
ম্যাচে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় লাল দল। শুরুটা ভালো হয়নি— মেহরাব হোসেন অপি ৭ বলে মাত্র ২ রান করে ফিরলেও এরপরই শুরু হয় রানের ফোয়ারা।
ইনিংসের মূল ভিত গড়েন নাসিরউদ্দিন ফারুক সজীব। ৫৩ বলে ৮৪ রানের ঝকঝকে ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৬টি ছক্কার মার। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে খেলেন মোহাম্মদ আশরাফুল, ২২ বলে ২৫ রান করেন তিনি। এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন মোহাম্মদ রফিক- ২৪ বলে ৫০ রান, যেখানে ছিল ৪টি চার ও ৪টি ছক্কা।
শেষ দিকে ডলার মাহমুদ মাত্র ৯ বলে ২৭ রান করে ইনিংস নিয়ে যান আরও উঁচুতে, তার ব্যাট থেকে আসে ৪টি ছক্কা। সবুজ দলের পক্ষে ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স নেন সর্বোচ্চ ২টি উইকেট, তবে বাকি বোলাররা লাল দলের ব্যাটিং ঝড় সামলাতে পারেননি।
২১৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে সবুজ দল। ইলিয়াস সানির ঘূর্ণিতে রীতিমতো ভেঙে পড়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা।
শাহরিয়ার নাফীস কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন, ১৯ বলে ৩৩ রান করেন ৪টি চার ও ২টি ছক্কায়। আব্দুর রাজ্জাকও ১৪ বলে ১৮ রান করেন, যেখানে ছিল ২টি ছক্কা। তবে এই দুজন ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।
বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন ইলিয়াস সানি। ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে তুলে নেন ৫টি উইকেট। আর ব্যাট হাতে ঝড় তোলার পর বোলিংয়েও নিজের প্রভাব দেখান মোহাম্মদ রফিক- ৩.২ ওভারে ১৮ রান দিয়ে নেন ৪টি উইকেট।
সব মিলিয়ে অভিজ্ঞদের দাপটে একপেশে ম্যাচে পরিণত হয় এই প্রীতি লড়াই। তবে স্কোরলাইনের বাইরেও দিনটির আসল সৌন্দর্য ছিল স্মৃতি, আবেগ আর ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা— যেখানে ফলাফলের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল একসঙ্গে মাঠে ফেরার আনন্দ।
এফআর