বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে সেফ প্যাসেজ দেওয়ার বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার আনুষ্ঠানিক নথি সংগ্রহে বাংলাদেশ কাজ করছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে তিনি এ তথ্য জানান। এ বিষয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে সম্পর্কিত ডকুমেন্ট সংগ্রহের চেষ্টা করছি।
এর আগে, বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। অনেক দেশ ও জাহাজ মালিক নিরাপদে প্রণালি পার হওয়ার জন্য তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। যেসব দেশকে ইরান বন্ধু মনে করে অথবা বিশেষ প্রয়োজনে অনুমতি দেয়, তাদের জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ পাহারার ব্যবস্থা করছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান তাদের এই বিশেষ তালিকায় চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক, ভারত এবং বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেছে।
আরাঘচি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ভারতের দুটি জাহাজ এই সুবিধা নিয়ে প্রণালি পার হয়েছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গেও এ বিষয়ে সমন্বয় করা হয়েছে
এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের তেলবাহী জাহাজ চলাচলে ইরানের সবুজ সংকেত দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট মেটাতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, জ্বালানি বিভাগ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ এ পর্যন্ত চীন থেকে সবচেয়ে বেশি পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে আসছিল। ইরান সম্প্রতি চীনের জাহাজ চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটানোর ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে চীনের কোম্পানি ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে বাংলাদেশ নিয়মিত পরিশোধিত তেল আমদানির সুযোগ পাবে।
/ইউএমএইচ