বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ অধিবেশন–সংক্রান্ত আলোচনার জন্য সংসদে নোটিশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার কর্মদিবসের শেষ দিকে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য দুই ঘণ্টা বরাদ্দ দেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে শফিকুর রহমান নোটিশটি সংসদে উত্থাপন করেন। এটি নিয়ে আলোচনা করার দাবি জানান।
অধিবেশন চলাকালে ডেপুটি স্পিকার জানান, কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, গত ১৫ মার্চ সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আমি অতি জনগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উত্থাপন করেছিলাম। স্পিকার আমাকে যথাযথভাবে নোটিশ জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন। আমরা তা করেছি। এখন আপনার মাধ্যমে এই মহান সংসদে নোটিশটি উপস্থাপন করছি।
এ সময় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ও ৭১ বিধির পর এ ধরনের প্রস্তাব বা নোটিশ উত্থাপিত হয়। আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে অনুরোধ করব, নিয়ম শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবের বিষয়ে আমাদেরও কিছু বলার আছে। তবে সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে এটি প্রশ্নোত্তর পর্ব ও ৭১ বিধি শেষে আলোচনা করা উচিত। এতে অন্য সদস্যদের অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে বলে জানান তিনি।
স্পিকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে দাঁড়িয়েছি বলে মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, এটি আমার অধিকার ও দায়িত্ব।
একপর্যায়ে সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পরে স্পিকার সংসদীয় বিধি অনুসরণ করে পরবর্তী কার্যদিবসে বা নির্ধারিত সময়ে বিষয়টি আলোচনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
/ইউএমএইচ