ক্রীড়াঙ্গনে এটি মাইলফলক হয়ে থাকবে

মামুন হোসেন

খেলা

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। ৫৫ বছর পর ঐতিহাসিক এক দিনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বাংলাদেশসহ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন। আজ দেশের

2026-03-30T05:18:44+00:00
2026-03-30T05:18:44+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
খেলা
ক্রীড়াঙ্গনে এটি মাইলফলক হয়ে থাকবে
মামুন হোসেন
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৮ এএম 
বাম পাশ থেকে (ওপর থেকে নিচে) সোনিয়া আক্তার, শিখা খাতুন, জাভেদ আহমেদ ও ইমাম। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। ৫৫ বছর পর ঐতিহাসিক এক দিনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বাংলাদেশসহ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন। আজ দেশের ক্রীড়াক্ষেত্র, ক্রীড়াবিদ এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। 

প্রথমবারের মতো ক্রীড়া ভাতার সুবিধায় আসছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ইভেন্ট থেকে সাফল্য বয়ে আনা ক্রীড়াবিদরা। প্রথম ধাপে ১২৯ জন পাবেন এই সুবিধা। একই সঙ্গে পাবেন ক্রীড়া কার্ড। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থেকে দেশের সফল ক্রীড়াবিদদের হাতে এই সম্মাননা স্মারক, অর্থ পুরস্কার এবং ক্রীড়া কার্ড তুলে দেবেন। প্রথম ধাপে ১৮টি খেলায় সাফল্য বয়ে আনা ক্রীড়াবিদরা এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। 

প্রথমবারের মতো এমন যুগান্তকারী, ব্যতিক্রমী উদ্যোগে দারুণ খুশি দেশের ক্রীড়াবিদরা।

সোনিয়া আক্তার টুম্পা— সাঁতারে বাংলাদেশের বড় এক নাম। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে আগেও দেশের জন্য সম্মান-সম্মাননা বয়ে এনেছেন। তবে ক্রীড়া কার্ডের সুবিধা কিংবা দীর্ঘমেয়াদে ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা জানানোর ঘটনা আগে দেখেননি। সরকারের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে টুম্পা বলেন, ‘এই ঘটনা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে মাইলফলক হয়ে থাকবে। আমাদের সাঁতার তো অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। অনেকে সাঁতার ছেড়ে অন্য পেশায় যাওয়ার চিন্তাও করছে। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যে উদ্যোগটা নিলেন, এতে করে আমাদের খেলাটাই শুধু বেঁচে গেল তা কিন্তু নয়, গ্রাম থেকে ওঠে আসা হাজারো সাঁতারু আমার এ পুরস্কার প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে আবারও উৎসাহিত-অনুপ্রাণিত হবে। সাঁতারকে পেশা হিসেবে নেওয়ার কথা ভাববে।’

টুম্পা গত বছর ভারতের অনুষ্ঠিত বিশ্ব দূরপাল্লা সাঁতারে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ কার্যালয়ে আজ টুম্পাদের ক্রীড়া কার্ডের পাশাপাশি এককালীন অর্থও পুরস্কার দেবেন। গত বছর আন্তর্জাতিক আসরে বিভিন্ন ইভেন্টে যারা স্বর্ণপদক জিতেছেন তারা প্রত্যেকে ৩ লাখ টাকা করে পাবেন। 

রুপা এবং ব্রোঞ্জ জয়ীরা প্রত্যেকে পাবেন ১ লাখ টাকা। সাঁতারু টুম্পা যেহেতু ব্রোঞ্জ জিতেছেন, তিনি ক্রীড়া কার্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা পাবেন। মাসিক ভাতাটা ক্রীড়া কার্ডের মাধ্যমে পাবেন। টুম্পার মতো খুশি দেশের তারকা উশুকা শিখা খাতুন। গত বছর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে ৫৬ কেজি ওজন শ্রেণিতে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন তিনি। ইসলামিক সলিডারিটি গেমস অনেক বড় আসর। এমন আসরে উশুতে পদক জিতে দেশের মান অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছেন শিখা খাতুন।

ক্রীড়া ভাতা কার্যক্রমে দারুণ খুশি শিখা। সময়ের আলোকে তিনি জানান, ‘দেশের শীর্ষ ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার প্রাপ্তি এটা তো জীবনের অনেক বড় অধ্যায়। আমাদের খেলাটা সেভাবে না এগোলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিন্তু আমাদের খেলোয়াড়রা প্রায়শই পদক জেতে। ৫৭টি দেশ ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে অংশ নিয়েছিল। সেখান থেকে আমি উশুতে ব্রোঞ্জ জিতেছি। আগে আমরা দেখেছি শুধু ক্রিকেটকেই সরকার প্রাধান্য দিত। কিন্তু এবার দেখলাম সব ধরনের খেলাকে সমান প্রাধান্য দিয়ে ক্রীড়া ভাতার জন্য মনোনীত করা হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রী এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই তারা এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়রা আরও বেশি উৎসাহিত হবে, অনুপ্রেরণা পাবে। আমি নিজেও দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হচ্ছি। সামনে আমার লক্ষ্য এসএ গেমস থেকে দেশের জন্য পদক নিয়ে আসা।’

শিখার মতো ইসলামিক সলিডারিটি গেমস থেকে গত বছর ব্রোঞ্জ পদক জেতেন টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জাভেদ আহমেদ। খৈ খৈ সাই মারমার সঙ্গে জুটি বেঁধে মিশ্র দ্বৈতে এই পদক জেতেন তিনি। 

ক্রীড়া ভাতা প্রসঙ্গে জাভেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করতে পারা হবে আমার জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, সবচেয়ে বড় সম্মানের। এই ধরনের উদ্যোগ আমাদের ক্রীড়াঙ্গন বিশেষ করে টেবিল টেনিস খেলাকে এগিয়ে নিতে আরও বেশি উৎসাহিত-অনুপ্রাণিত করবে।’ 

শারীরিকভাবে সুস্থ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি সরকার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন খেলোয়াড়দেরও ক্রীড়া ভাতার জন্য মনোনীত করেছে। তেমনই একজন হলেন প্যারা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় এসএল-৪ ক্যাটাগরির মোহাম্মদ আলী ইমাম। 

গত বছর জাপান আন্তর্জাতিক প্যারা ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে ব্রোঞ্জ জেতেন ইমাম। এর আগে ২০২৩ সালেও একই টুর্নামেন্টে ব্রোঞ্জ জেতার রেকর্ড রয়েছে তার। ক্রীড়া কার্ডের উদ্যোগে অনেক খুশি এ প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়। 

ইমাম বলেন, আমরা পিছিয়ে পড়া ক্রীড়াবিদরা এর মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেলাম। বেঁচে থাকার অবলম্বন তৈরি হলো।’

এফআর


  বিষয়:   ক্রীড়াঙ্গন  মাইলফলক  ক্রীড়া কার্ড 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: