২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট মূল্য আকাশচুম্বী পর্যায়ে পৌঁছেছে। যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। টিকিট বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম সিটগিকের তথ্য অনুযায়ী, ফাইনালের টিকিটের গড় দাম ১২,৭৫১ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের সুপার বোলের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ফাইনালের প্রবেশমূল্য বা ‘গেট-ইন প্রাইস’ প্রায় ৭,৬০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের বিশাল ধারণক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এই আকাশচুম্বী চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে মূলত খেলাটির অকল্পনীয় বৈশ্বিক আবেদনের কারণে। এছাড়া, ফাইনালে আর্জেন্টিনার অংশগ্রহণ এবং এটি যে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ, সেই আবেগীয় বিষয়টি টিকিটের চাহিদা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপ ফাইনালে আন্তর্জাতিক ক্রেতার হার ১৯.৮ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের সুপার বোলের ৪.৫ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি, যা প্রমাণ করে এই লড়াইয়ের আবেদন কেবল নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফিফার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও পুনর্বিক্রয় বাজারে টিকিটের দাম অনেক বেশি। মে মাসে দাম কিছুটা কমলেও, বিশ্বকাপের উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আবার বাড়তে শুরু করে এবং জুন মাসে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। টিকিটের এই অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য সত্ত্বেও পুরো টুর্নামেন্টে স্টেডিয়ামের দর্শক উপস্থিতি ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশ, যা ফুটবলপ্রেমীদের অদম্য আগ্রহেরই বহিঃপ্রকাশ। ঐতিহাসিকভাবে উইম্বলডন, অলিম্পিক বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো বড় ইভেন্টগুলোর তুলনায় বিশ্বকাপ ফাইনালের বাজার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন ও অনন্য, কারণ এর দর্শক ভিত্তি সম্পূর্ণ বৈশ্বিক এবং এর গুরুত্ব যেকোনো একক ক্রীড়া ইভেন্টের চেয়ে অনেক বেশি।
বর্তমানে ফাইনালের টিকিট সম্পূর্ণ ‘সোল্ড আউট’ বা বিক্রি হয়ে গেছে। এমনকি অনেক টিকিট ব্যবসায়ী এবং থার্ড-পার্টি প্ল্যাটফর্মগুলোতেও এখন আর পর্যাপ্ত আসন অবশিষ্ট নেই। ধারণা করা হচ্ছে, টেলিভিশনের পর্দায় বিশ্বের ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ এই ঐতিহাসিক লড়াই উপভোগ করবেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি কেবল মাঠের ফুটবলীয় কৌশলের লড়াই নয়, বরং অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং আবেগের এক অভূতপূর্ব মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
টিকিট বাজার বিশ্লেষক কিথ পাগেলো জানিয়েছেন, এত বড় স্টেডিয়ামে এত বিপুল সংখ্যক টিকিট এমন চড়া দামে বিক্রি হওয়া ক্রীড়া বিপণনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। বিশেষ করে মহামারি-পরবর্তী সময়ে এটিই সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ইভেন্ট হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। যদিও সুপার বোলের তুলনায় কিছু প্ল্যাটফর্মে চাহিদা কিছুটা কম বলে মনে হলেও, সামগ্রিক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বকাপ ফাইনাল যে সব ধরনের ক্রীড়া ইভেন্টকে ছাড়িয়ে গেছে, তা পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবেই তুলে ধরেছে। রোববারের এই মেগা ফাইনাল তাই ফুটবল ইতিহাসের পাতায় কেবল শিরোপা জয়ের জন্যই নয়, বরং টিকিটের উচ্চমূল্য ও চাহিদার রেকর্ডের জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সময়ের আলো/আআ