বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর গুলশান থানার এক হত্যা মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করে পুলিশ। এসময় তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় মাথায় হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে তাকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। এরপর তাকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। এসময় তার আইনজীবীরা তাকে কান্না থামাতে বলেন। তাকে শান্ত থাকার জন্য আশ্বস্ত করা হয়।
এরপর আসামির পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একইসঙ্গে জামিন শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রোববার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকা থেকে তাকে আটক করে জনতা ও একদল শিক্ষার্থী। এরপর রাজধানীর শাহ আলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে তারা। পরে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই গুলশানের শাহজাদপুর সুবাস্তু মার্কেটের সামনে হাজারো ছাত্র-জনতা মিছিল করছিল। তৎকালীন সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনায় আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করেন। এ সময় ভিক্টিম মো. ইমরান কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে আন্দোলনরতদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে স্লোগান দিলে অজ্ঞাত আসামিদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের এপ্রিলে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
সময়ের আলো/জেডআই