পরপর দুটি বিশ্বকাপে না খেলার ব্যর্থতার গ্লানি ইতালিকে দীর্ঘদিন ধরেই তাড়া করে বেড়াচ্ছে। তাই এবার মূলপর্বে জায়গা করে নেওয়ার চাপটা যেন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও আজ্জুরিরা চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, তবু ২০২১ সালের ইউরো জয় বাদ দিলে বিশ্বমঞ্চে তাদের শেষ দেখা গিয়েছিল প্রায় ১২ বছর আগে। ২০০৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও থেকেই বিশ্ব আসরে দুরবস্থা ইতালির।
২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় আর এরপর তো বাছাইপর্বের গণ্ডিই পেরোতে পারেনি। এ নিয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ বাছাইপবের্র প্লে-অফে খেলছে। এর আগে সুইডেন এবং উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিলেও গত বৃহস্পতিবারের সেমিফাইনালে তারা অন্তত টিকে থাকতে পেরেছে। বেরগামোতে প্রথমার্ধে বেশ ধুঁকলেও শেষ পর্যন্ত সান্দ্রো তোনালি এবং মইসে কিনের গোলে উত্তর আয়ারল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা।
গ্রুপ আইয়ের বাকি সব ম্যাচ জিতলেও নরওয়ের কাছে দুইবার ৩-০ গোলে হার ইতালির রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। তবে আশার কথা হলো, গত সেপ্টেম্বরে লুসিয়ানো স্পালেত্তির কাছ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর কোচ জেন্নারো গাত্তুসো দলকে গোল করতে শিখিয়েছেন। তার অধীনে ইতালি ম্যাচপ্রতি গড়ে দুটির বেশি গোল করছে। দুই দশক আগে খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জেতা গাত্তুসোকে এখন ‘লা নাজিওনালে’কে নিয়ে বসনিয়া যেতে হবে স্বস্তিদায়ক জয়ের খোঁজে। সেখানে ব্যর্থ হওয়ার পরিণাম হবে অকল্পনীয়।
অন্যদিকে ইতালির সঙ্গে সপ্তম সাক্ষাতের অপেক্ষায় থাকা বসনিয়া হার্জেগোভিনার জয় মাত্র একটি। সেটি ছিল ১৯৯৬ সালে সারায়েভোতে এক প্রীতি ম্যাচে। এরপর অনেক সময় পার হয়েছে, তবে দুদলই এখন ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ফেরার অপেক্ষায়। আর মাত্র একটি জয় দূরে আছে তারা। গত বৃহস্পতিবার এডিন জেকোর গোলে সমতায় ফেরার পর ওয়েলসকে পেনাল্টিতে হারিয়ে ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করেছে বসনিয়া। এই জয়টি তাদের নিয়ে যাবে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’তে, যেখানে আয়োজক কানাডা ছাড়াও কাতার ও সুইজারল্যান্ড রয়েছে।
ইতালি, নরওয়ের কাছে বড় হারের পর প্লে-অফে খেলবে এটা একপ্রকার নিশ্চিতই ছিল, কিন্তু বসনিয়ার সরাসরি সুযোগ হাতছাড়া হওয়াটা ছিল বেশ কষ্টের। নভেম্বরে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোল খেয়ে ড্র করাটা তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন স্বাধীন দেশ হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো বড় কোনো টুর্নামেন্টের মূলপর্বে উঠার সুযোগ তাদের সামনে। জেনিৎসার হাড়কাঁপানো শীত আর গ্যালারি ভর্তি উন্মাতাল দর্শক বসনিয়াকে বাড়তি সুবিধা দেবে, যদিও ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ইতালির চেয়ে তারা ৫৮ ধাপ পিছিয়ে।
দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, গাত্তুসো সম্ভবত উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা একাদশেই আস্থা রাখবেন। তবে মাতেও রেতেগুই ফর্মে না থাকায় ২০ বছর বয়সি ইন্টার মিলান স্ট্রাইকার পিও এস্পোসিতোর সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এস্পোসিতো শেষ পাঁচটি বাছাইপর্বের ম্যাচে তিনটি গোল করেছেন। এদিকে নাপোলি অধিনায়ক জিওভান্নি দি লোরেনজো এবং ফেদেরিকো কিয়েসা না থাকলেও বাস্তোনি, মানচিনি এবং কালাফিওরি চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন। তবে জিয়ানলুকা স্কামাক্কা এখনও চোটের কারণে অনিশ্চিত।
বসনিয়ার কোচ সের্গেই বারবারেজও হয়তো চেনা ছকেই দল সাজাবেন। তাদের সীমিত স্কোয়াডে তরুণ প্রতিভা কেরিম আলাজবেগোভিক জায়গা করে নিতে পারেন। ৪০ বছর বয়সি এডিন জেকো এখনও দলের প্রধান ভরসা, যিনি বাছাইপর্বে এ পর্যন্ত ৬টি গোল করেছেন। আক্রমণের দায়িত্বে জেকোর সঙ্গে থাকবেন এরমেদিন ডেমিরোভিচ। আর ইতালীয় ফরোয়ার্ডদের রুখতে বসনিয়ার রক্ষণভাগে থাকবেন সিরি’আ লিগে খেলা তারিক মুহারমোভিচ এবং সেয়াদ কোলাসিনাচ।
একই সময়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ইউরোপ অঞ্চলের অন্য প্লে-অফে পোল্যান্ডের মুখোমুখি হবে সুইডেন আর চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে লড়বে ডেনমার্ক। অর্থাৎ এই চার বড় দলের মধ্যে যেকোনো দুদলকে বিদায় নিতে হবে বাছাইপর্ব থেকেই। ইউরোপিয়ান প্লে-অফের আরেক ফাইনালে কসোভোর মুখোমুখি হবে তুরস্ক।