‘ক্রীড়া ভাতা, ক্রীড়া কার্ড এসব কিছুই আমি চাই না। প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখতে পেলাম না, ওনার হাত থেকে সম্মাননা স্মারক নিতে পারলাম না এটাই কষ্ট’ সময়ের আলোকে অনেকটা আক্ষেপের সুরে, কান্নাজড়ানো কণ্ঠে এমন কথাই জানান আলোচিত বক্সার উৎসব আহমেদ।
গত বছর ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত চার জাতি বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে ব্যান্টন ওয়েট ক্যাটাগরিতে (৫৪ কেজি ওজন শ্রেণিতে) নেপাল ও ভুটানকে হারিয়ে স্বর্ণপদক জেতেন এ তরুণ। ওই আসরে ভারতও ছিল। অথচ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল যে ১২৯ জন সফল ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড ও আন্তর্জাতিক আসর থেকে সাফল্য বয়ে আনার স্বীকৃতি স্মারক (পুরস্কার) তুলে দিলেন, সেই তালিকায় ছিলেন না রাজশাহীর ছেলে উৎসব।
প্রধানমন্ত্রীর ক্রীড়া ভাতার তালিকায় উৎসবের নাম না থাকলেও বক্সিং ইভেন্ট থেকে আরও তিনজনের নাম ছিল। যারা উৎসবের চেয়ে কম সাফল্য এনেও ভাতার তালিকায় যোগ হয়েছেন। কেন বাদ পড়লেন উৎসব এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশ অ্যামেচার বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুস খানের সঙ্গে।
সময়ের আলোকে তিনি জানান, ‘শুধু উৎসব না, তালিকায় আরও তিনজনের নাম বাদ পড়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কাছে আমরা মোট ৭ জনের তালিকা পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু উৎসবসহ চারজনের জিও (সরকারি অনুমোদনপত্র) সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে পুরস্কারের তালিকা থেকে তারা বাদ পড়েছে।’
কোন চারজন বাদ পড়েছে সময়ের আলোর এমন প্রশ্নে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। এ বিষয়ে কুদ্দুস খান বলেন, ‘সারা দিন প্রধানমন্ত্রীর প্রোগ্রামে ছিলাম। ব্যস্ততায় কেটেছে। কোন চারজন বাদ পড়েছে আমি এই মুহূর্তে নামগুলো বলতে পারছি না। দেখে বলতে হবে। পরে আপনাদের কাছে বাদ পড়াদের তালিকা পাঠাব।’
সময়ের আলোর কাছে উৎসবের জিও লেটারের কপি থাকার কথা জেনেও দ্রুত ফোন রেখে দিলেন বক্সিংয়ের এ কর্তা।
ভুটানে যে আন্তর্জাতিক আসরে উৎসব গত বছর খেলতে গিয়েছিলেন, সেখানে তার কোচ হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের তৃণমূলের জনপ্রিয় কোচ শফিউল আজম মাসুদ।
সময়ের আলোর পক্ষ থেকে মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘আমি সাধারণ সম্পাদকের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কেন আপনারা উৎসবের নাম পুরস্কারের তালিকায় দিলেন না। কুদ্দুস ভাই আমাকে জানালেন যে, উৎসবের নাকি জিও পাওয়া যায়নি। অথচ জিওর সেই কপি কিন্তু আমার কাছে আছে। আমরা সরকারের অনুমোদন নিয়ে, ফেডারেশনের অনুমোদন নিয়েই ভুটানে খেলতে গিয়েছিলাম। উৎসব আমাদের মেধাবী বক্সারদের একজন। পুরস্কারের তালিকায় তাকে দেখতে না পেয়ে খুব খারাপ লেগেছে।’
পুরস্কারের দিনই জানতে পেরেছেন উৎসব যে তার নাম তালিকায় নেই। তাই সকাল থেকেই মন খারাপ এ বক্সারের।
নিজের অনুভূতি জানিয়ে উৎসব বলেন, ‘আমরা মুখে ফাটিয়ে, শরীরের রক্ত বের করে দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনি। ক্রিকেট, ফুটবলের ভিড়ে আমাদের সেভাবে মূল্যায়ন হয় না। বর্তমান সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আমাদের ক্রীড়াবান্ধব ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক যেই আমাদের মতো ছোট ফেডারেশনগুলোকে মূল্যায়ন করলেন, সেখানে আমার মতো স্বর্ণজয়ীকে বঞ্চিত করা হলো। এটা পুরো ফেডারেশনের দায়। আমার মনে হয় তারা ইচ্ছা করেই এ কাজ করেছে। আমি সরকারি চাকরি করি না। কোনো বাহিনীর কিংবা সংস্থার সদস্যও নই। আমার কাছে কেন সরকারি লেটার চাওয়া হবে। আর আমি তো ফেডারেশনের অনুমতি নিয়ে, সরকারি লেটার (জিও) নিয়েই খেলতে গিয়েছি। স্বর্ণ জিতে আসার পর ফেডারেশন আমাকে সংবর্ধনা দিয়েছে। ৫০ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কার দিয়েছে। এখন কেন বলছে আমার জিও তারা পায়নি।’
প্রধানমন্ত্রীর ক্রীড়া ভাতায় যুক্ত হওয়ার অন্যতম শর্ত ছিল সরকারি অনুমোদনের চিঠি (জিও) থাকতে হবে। খেলোয়াড় যে আন্তর্জাতিক পদকটি নিয়ে এলেন, ওই ইভেন্টে অংশ নেওয়ার আগে সরকারি অনুমোদন ছিল কি না! উৎসব এই শর্ত পূরণ করলেও ফেডারেশনের খামখেয়ালিতে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাওয়ার স্বাদ পূরণ হলো না।