অনেকে গণভোটের আদেশকে আইন নয়, অসাংবিধানিক বলছে। জনগণ যেখানে গণভোটের মধ্য দিয়ে এই আদেশের পক্ষে রায় দিয়েছে। সেখানে জনগণের রায়কে অসাংবিধানিক বলা হলে এই সংসদকে কলঙ্কিত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ওপর আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা কোন প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে আজকের এই সংসদে এসেছি আমরা সকলেই সেটা জানি। সেই প্রেক্ষাপট যখন বাংলাদেশে সংঘটিত হলো, তারপরে ৫ আগস্ট থেকে নিয়ে ৮ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে কোন সরকার ছিল না। সেই সময়টাতে বাংলাদেশের সংবিধান কতটুকু কার্যকর ছিল, সেই ব্যাপারে কি আমরা খোঁজখবরটা রেখেছি।’
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ গ্রহণ করেছে... সে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাংলাদেশের সংবিধানের কোথাও কোনো বর্ণনা নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়টাতে ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়। সেই কমিশনে আমরা ৩০টিরও অধিক রাজনৈতিক দল এবং জোট দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ আলোচনা করেছিলাম। সেই আলোচনার এক প্রান্তে গিয়ে যখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ আসে সেটা নিয়ে আমরা কয়েক দফায় আলোচনা করেছি। সেই আলোচনায় আজকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন, জুনায়েদ সাকিব ভাই, সেখানে উপস্থিত ছিলেন, নুরুল হক নূর ভাই, উপস্থিত ছিলেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। এতগুলো মানুষ সরকারি দলের বেঞ্চে তারা বসে আছেন, তারা ঐকমত্য কমিশনে উপস্থিত হয়েছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘‘জনগণের সামনে তারেক রহমান... আমাদের প্রধানমন্ত্রী ৩০ জানুয়ারি রংপুরে আবু সাঈদের জন্মভূমিতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, দয়া করে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিন। দয়া করে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার কথা বলে তারা এখন এসে দায় মানতে কেন চান না। সেই প্রশ্নটা আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে করতে চাই।’’
আখতার হোসেন বলেন, ‘যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, সে অধ্যাদেশের ব্যাপার নিয়ে একটা আলাপ এখানে উঠেছে। সে অধ্যাদেশটা কি এই সংসদে অ্যাপ্রুভ করা হবে না? সেই অধ্যাদেশ এই সংসদে অ্যাপ্রুভ করা হোক আর না হোক, সেই গণভোট যে বৈধ সেটাকে অবৈধ বলার কোনো সুযোগ নেই।’
সময়ের আলো/কেএইচও