কার্ডের মাধ্যমে আড়াই হাজার টাকার সার বীজ পাবে কৃষক

সংসদ প্রতিবেদক

জাতীয়

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সার ও বীজ সরাসরি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর

2026-04-01T05:29:47+00:00
2026-04-01T05:29:47+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
কার্ডের মাধ্যমে আড়াই হাজার টাকার সার বীজ পাবে কৃষক
সংসদ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৯ এএম 
সংগৃহীত ছবি
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সার ও বীজ সরাসরি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, কৃষকরা জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকার সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের জন্য প্রণোদনা পাবেন। 

অন্যদিকে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু জানিয়েছেন, অবৈধ দখল হওয়া সরকারি জায়গা উদ্ধার ও উদ্ধার হওয়া খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনাসহ মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আর জালিয়াতির মাধ্যমে যারা মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম লিখিয়েছেন এবং অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন তাদের চিহ্নিত করে শিগগিরই তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। 

একই সঙ্গে বিগত সরকারের আমলে বাদ পড়া ও হয়রানির শিকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রীরা এ তথ্য জানান।

স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সরকারদলীয় সদস্য রেজা আহাম্মেদের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কৃষিকাজে সহায়তার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে কেবল ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে এসব বিতরণ করা হবে।

একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, কৃষির উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক এবং অন্যান্য উপকরণ সহায়তা দেওয়া হয়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে। এতে ২৫ লাখ ২২ হাজার কৃষক উপকৃত হয়েছেন। নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ইতিমধ্যে কৃষকপ্রতি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এ কার্যক্রমে ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এতে উপকৃত হচ্ছেন প্রায় ১২ লাখ কৃষক।

কৃষিমন্ত্রী জানান, সরকার কৃষি উৎপাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার, সেচ কাজে বিদ্যুৎ, ইক্ষু 
ইত্যাদি খাতে মার্চ/২০২৬ পর্যন্ত ১৬ হাজার ২৪০ লাখ কোটি টাকা এবং ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৬ লাখ মেট্রিকটন ইউরিয়া, ৯ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিকটন টিএসপি, ১০ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিকটন এমওপি এবং ১৬ দশমিক ৮৫ লাখ মেট্রিকটন ডিএপি সার ভর্তুকি মূল্যে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। 

কৃষকের উৎপাদিত শাকসবজি ও ফল সংরক্ষণের জন্য ১৮০টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ, আলু সংরক্ষণের জন্য ৭০৩টি মডেল ঘর, পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ৮০০টি মডেল ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার ও বাস্তবমুখী নীতি বাস্তবায়নের ফলে ধান, ভুট্টা, আলু, সবজি ও কলাসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

‘তন্ত্র-মন্ত্র’ দিয়ে বা জালিয়াতির মাধ্যমে যারা মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম লিখিয়েছেন এবং অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করে শিগগিরই তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। একই সঙ্গে বিগত সরকারের আমলে বাদ পড়া ও হয়রানির শিকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের করা সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করছি। আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এ ধরনের অমুক্তিযোদ্ধা, যারা ‘তন্ত্র-মন্ত্র’ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন, তাদের সন্তানদের চাকরি দিয়েছেন এবং নিজেরাও বিভিন্নভাবে অবৈধভাবে লাভবান হয়েছেন তাদের চিহ্নিত করতে কাজ করছি।

বিগত সরকারের আমলের অনিয়মের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে অনেক মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তাদের সনদ স্থগিত করা হয়েছিল এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। সংসদ সদস্যদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, এই কাজগুলো আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে জাতির সামনে উপস্থাপন করব।

অবৈধ দখল হওয়া সরকারি জায়গা উদ্ধার ও উদ্ধার হওয়া খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনাসহ মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানান ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। একই সঙ্গে জমি দখলমুক্ত করে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবৈধ দখল হওয়া সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, অবৈধ দখল হওয়া সরকারি জায়গা উদ্ধার এবং উদ্ধার করা খাসজমি বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী বন্দোবস্ত দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনায় এবং মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

মাঠ পর্যায়ে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি জায়গা দখলমুক্ত ও পরবর্তী সময়ে তা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।



  বিষয়:   কৃষক  কার্ড  ভূমিহীন  প্রান্তিক  কৃষিমন্ত্রী  মোহাম্মদ  আমিন 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: