বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীকে ডিজিএফআইর তৎকালীন মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের পরিকল্পনায় গুম করা হয়।
জানা যায়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের এ তথ্য দিয়েছেন মামুন খালেদ।
এছাড়া ইলিয়াস আলীকে গুম করার নেপথ্যে কারা ছিলেন, কার নির্দেশে কোন কোন কর্মকর্তা গুমের মিশনে অংশ নেন- এমন অনেক স্পর্শকাতর বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন শেখ মামুন খালেদ।
গুমের বিষয়ে তিনি বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও জেরার একপর্যায়ে স্বীকার করেছেন গুমের অভিযানের সময় ডিজিএফআইর দুজন মেজর প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিলেন।
এছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার আরও কয়েকজন কর্মকর্তা বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন বলেও জানান তিনি।
তিনি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে র্যাব ইলিয়াস আলী গুমের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার আগে ও পরে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও র্যাবের তৎকালীন ডিজির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন শেখ হাসিনা। ইলিয়াস আলী ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালককে র্যাব-১ কে দিয়ে তুলে আনা হয় ।
মামুন খালেদ দাবি করেছেন, ওই অভিযানে অংশগ্রহন করা কর্মকর্তাদের অনেকে এখনো দেশেই অবস্থান করছেন।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ২০১২ সালে ঘটনার ওই রাতে মামুন খালেদের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, ডিজিএফআই ও র্যাবের বিশেষ দল ইলিয়াস আলীকে গুম করে।
কেন ইলিয়াস আলীকে গুম করা হলো গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের এমন প্রশ্নের জবাবে মামুন খালেদ বলেন, টিপাইমুখ বাঁধ এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়ায় ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়।
সময়ের আলো/আরবিএন