মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রভাবে একাধিক দেশের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত ৩৫ দিনে মোট ৮৯৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। একই সময়ে বিকল্প রুট ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে এক হাজার ২৮৯টি ফ্লাইট পরিচালিত বা পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করলে ঢাকার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সরাসরি বিমান যোগাযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। ফলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এয়ারলাইন্স শত শত ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়।
তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি ফ্লাইট বাতিলের মধ্য দিয়ে সংকটের সূচনা হয়, যা পুরো মার্চজুড়ে অব্যাহত থাকে। ১ মার্চ সর্বোচ্চ ৪০টি এবং ২ মার্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়। মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৮ থেকে ৩৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এদিকে ১ এপ্রিলও ১৮টি ফ্লাইট বাতিলের তথ্য পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে এয়ার অ্যারাবিয়া ও জাজিরা এয়ারওয়েজের চারটি করে, কাতার এয়ারওয়েজের চারটি এবং কুয়েত এয়ারওয়েজ, গালফ এয়ার ও এমিরেটসের দুটি করে ফ্লাইট রয়েছে।
সংকটকালীন পরিস্থিতিতেও বিকল্প রুটে সীমিত আকারে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত মাস্কাট, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিমুখে মোট এক হাজার ২৮৯টি ফ্লাইট পরিচালিত বা পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্চের মাঝামাঝি থেকে ফ্লাইট পরিচালনার সংখ্যা কিছুটা বাড়তে শুরু করে।
২৪ ও ২৬ মার্চ সর্বোচ্চ ৫০টি করে ফ্লাইট পরিচালিত হয়। ৩১ মার্চ ৪৮টি ফ্লাইট চলেছে এবং ১ এপ্রিল ৫১টি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্লাইট বাতিলের কারণে মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী কর্মী, ব্যবসায়ী ও ট্রানজিট যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক যাত্রীকে বিমানবন্দর থেকে ফিরে যেতে হচ্ছে, আবার অনেকের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হবে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
ভোগান্তি এড়াতে যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সময়ের আলো/আরবিএন