বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন, আমরা ফ্যাসিবাদের সংক্রমণ ইতোমধ্যে লক্ষ্য করছি।
শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কেরাণীগঞ্জে জেলা দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ একটা রোগ। নির্দিষ্ট রোগী মারা গেলেও ফ্যাসিবাদ মারা গেছে, এটা বলতে পারবেন না। এটা একজন থেকে আরেকজনে সংক্রমিত হয় এবং সেই সংক্রমণ ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ্য করছি। জনগণের রায় অবলীলায় অস্বীকার করার নামই হলো ফ্যাসিবাদের সূচনা। আমরা দেশে আর ফ্যাসিবাদ চাই না। ইনশাআল্লাহ, জনগণের ন্যায্য অধিকার জনগণের হাতে তুলে না দেওয়া পর্যন্ত ১১ দল এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লড়াই অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারি দলকে বলবো, এখনও সময় হাতছাড়া হয়ে যায়নি। আমরা চেয়েছিলাম সংসদের ভিতরে সমাধান হোক। আপনারা সুযোগ গ্রহণ করেননি। আপনারা ঠেলে এ রায় বাস্তবায়ন করার জন্য জনগণের কাছে আসতে বাধ্য করেছেন। এই জনগণ খালি হাতে সশস্ত্র দূর্বৃত্তদের মোকাবেলা করে ৫ আগস্ট পরিবর্তন এনেছিল। সেই জনগণের মৃত্যু হয় নাই। এই জনগণ এখনও জীবিত, এখনও জাগ্রত। বিশেষ করে আমাদের যুবসমাজ, যাদের নেতৃত্বে সেই ফ্যাসিস্টরা পালাতে বাধ্য হয়েছিল। আমরা তাদের বলবো, তোমাদের বিপ্লবের যে হাতিয়ার অর্থাৎ দেশপ্রেম ও ঈমানের হাতিয়ার, সেটাকে আবার শাণিত করো। যেমন আগে নেমেছি, এখন আবার নামবো। জনগণের এই দাবি আমরা আদায় করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন করা অসম্ভব।
জাতিকে বলেছিলাম, আপনারা নিজেদের জন্য আমাদের একটা ভোট দেবেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, আর রাষ্ট্র মেরামতের জন্য, নতুন একটি প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আপনারা গণভোটে হ্যাঁ দেবেন। জনগণ দিয়েছে। তারা এখন মানবেন না। এখন তারা সংবিধান সংশোধন করবেন না। সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করে, সংশোধন না সংস্কার? একটা হলো, পুরনো জামা ছিড়ে গেছে ওইটাকে কেটে জোড়া দিয়ে পরানো। আরেকটা হলো গায়ের জামা ছিড়ে গেছে, সেটা পুরোটা ফেলে দিয়ে সেখানে নতুন জামা পরানো। আমরা ওই কাটাছেড়া জামা আর জাতির গায়ে পরাতে চাই না। এই সংবিধান ১৭ বার সংশোধন হয়েছে। এতো সংশোধনের মধ্যে ফ্যাসিবাদ আসলো কীভাবে। সংবিধানের যে ধারাগুলোর কারণে ফ্যাসিবাদ জন্ম নেয়? আমরা ওই ধারাগুলোই নির্বাসনে পাঠিয়ে সংবিধান সংস্কার করতে চাই।
সরকারি দল বলছে, তারা সংস্কার মানবেন না, সংবিধান মানবেন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা তাদের অনুরোধ করবো, যদি আমরা সবাই গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হই, আসুন, গণভোটে আমরা সবাই এক হয়ে যায়। হ্যাঁ, সংকট আপনারা তৈরি করেছেন। এটা ১৫ মার্চের ভিতরে নিরসন হওয়ার কথা ছিল। আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করেন নাই, এজন্যই সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা দুটো শপথ নিয়েছি, আপানারা একটা নিয়েছেন। আপনাদের দায়িত্ব ছিল সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করার। দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে লিখিত অনুরোধ জানানো।
আপনারা শুধু অনুরোধ জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ অধিবেশন আহ্বানের জন্য। সংস্কার পরিষদের জন্য বলেন নাই। আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং জনগণের সঙ্গে দেওয়া আপনাদের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘণ করেছেন। আমরা আমাদের জায়গায় রয়েছি বলেও জানান তিনি।
গণভোটকে অগ্রাহ্য অমান্য করার কারণে জ্বালানি বাজার বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে আগামীকাল ইনশাআল্লাহ ঢাকায় আমাদের আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। আমাদের কর্মসূচি হবে নিয়মতান্ত্রিক ও ইস্পাত কঠিন। আমরা সহিংসতায় বিশ্বাস করি না। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে কেউ সহিংসতা করতে আসলে আমরা ইস্পাতের মতো হয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।
দেশবাসীকে আমরা আহ্বান জানাবো মন্তব্য করে যতদিন আপনারা দেখবেন যে আপনাদের জন্য, আপনাদের অধিকারের জন্য আমরা লড়াই করছি, আমাদের জন্য দোয়া করবেন, ভালোবাসবেন, সমর্থন দিবেন। ন্যায্য দাবিগুলো যেহেতু জনগণের, সে কারণে আপনাদের সঙ্গে একাত্মতা হয়ে, আমাদের সঙ্গে না, আপনাদের সঙ্গে একাকার হয়ে আমরা লড়াই করবো ইনশাআল্লাহ।
/ইউএমএইচ