গ্রীষ্ম শুরু হতে এখনও সপ্তাহখানেক বাকি। এরই মধ্যে চৈত্রের শেষভাগে তীব্র গরমে জনজীবনে নেমে এসেছে অস্বস্তি। দিনের প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, সামনে দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে এবং তীব্র উত্তাপ জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি মাসে একাধিক তীব্র তাপপ্রবাহের পাশাপাশি কালবৈশাখীরও আশঙ্কা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঁচ থেকে সাত দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে এক থেকে তিন দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড়, দমকা হাওয়া এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, শনিবার দেশের ১৫টি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। এর মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়, ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এ জেলায় টানা তিন দিন ধরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে। এর আগের দিন শুক্রবার তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়া জেলার সংখ্যা ছিল ২৭। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে রাজধানীর তাপমাত্রাও সামান্য কমতির দিকে রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ রোববার পরিস্থিতি মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে সোম থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, ঢাকা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, রাঙামাটি, চাঁদপুর, বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলাসহ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায় ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন এ জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া খুলনা বিভাগের প্রায় সব জেলাতেই তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। এর পাশাপাশি টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও পটুয়াখালী জেলাতেও তাপপ্রবাহের প্রভাব ছিল। খুলনা বিভাগে জেলার সংখ্যা ১০ হওয়ায় সব মিলিয়ে ১৫টি জেলায় তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে শনিবার রাজধানীতেও তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। এদিন ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিন ছিল ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, আগের তুলনায় বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। শনিবার সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় এবং শরীয়তপুরসহ দেশের আরও কয়েকটি স্থানে বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে, ৮৩ মিলিমিটার। রোববারও সিলেট, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সোম থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টিপাত হতে পারে, যার ফলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসজুড়ে দেশে দুই থেকে চারটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তীব্র তাপপ্রবাহের সময় দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, সার্বিকভাবে মাসজুড়ে দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কয়েক দফা তাপপ্রবাহের কারণে গরমের তীব্রতা জনজীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
সমুদ্র পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক করেছে আবহাওয়া বিভাগ। বঙ্গোপসাগরে এ মাসে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
এদিকে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে এপ্রিল মাসে স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকতে পারে। তবে তাপপ্রবাহ, ভ্যাপসা গরম, কালবৈশাখী ঝড় এবং সম্ভাব্য লঘুচাপ- সব মিলিয়ে বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
সময়ের আলো/আআ