জ্বালানি সংকটের ধাক্কা : অনলাইন ক্লাস প্রসঙ্গে কয়েকটি ভাবনা

খন্দকার ওবায়দুল্লাহ

জাতীয়

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং তেলের দাম

2026-04-05T23:17:31+00:00
2026-04-05T23:17:31+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
জ্বালানি সংকটের ধাক্কা : অনলাইন ক্লাস প্রসঙ্গে কয়েকটি ভাবনা
খন্দকার ওবায়দুল্লাহ
প্রকাশ: রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৭ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি মন্দার দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতির প্রভাব শিক্ষা খাতেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার আবারও অনলাইন ক্লাস চালুর দিকে যেতে পারে এমন আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন ক্লাস চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী এ ধরনের উদ্যোগের ইঙ্গিত দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, এই সংকট আমাদের জন্য একটি বিকল্প জীবনধারার সুযোগ তৈরি করতে পারে। ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পায়ের রিকশা ও সাইকেলের ব্যবহার বাড়ানো গেলে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি বায়ু ও শব্দদূষণ কমবে। এতে মানুষের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং দৈনন্দিন ব্যয়ও কমে আসবে।

জ্বালানি সংকটে বিকল্প ভাবনা

জ্বালানি সংকট ও বাড়তি তেলের দামের প্রেক্ষাপটে ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পায়ের রিকশা ও সাইকেলের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এটি একদিকে যেমন পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে, তেমনি নগরীর যানজট কমাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোটরযান থেকে নির্গত ধোঁয়া ও শব্দদূষণ নগরজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এর বিপরীতে রিকশা ও সাইকেল পরিবেশবান্ধব বাহন হিসেবে বায়ুর গুণমান উন্নত করতে পারে। একই সঙ্গে এসব বাহনের ব্যবহার বাড়লে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে, যা বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।

এছাড়া স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য রিকশা ও সাইকেলকে সাশ্রয়ী ও স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সাইকেল চালানো শারীরিক ব্যায়াম নিশ্চিত করে, যা মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, সাইকেল ও রিকশার ব্যবহার বাড়াতে হলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। পাশাপাশি স্বল্প দূরত্বে ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে সাইকেল ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করা উচিত।

অনলাইন ক্লাস ও শিশুদের মোবাইল আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার আবারও অনলাইন ক্লাস চালুর দিকে যেতে পারে এমন আলোচনার মধ্যে শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অভিভাবকরা। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন ক্লাস চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অভিভাবকদের মতে, দীর্ঘ সময় অনলাইন ক্লাস চললে শিশুদের স্ক্রিন নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্য, পড়াশোনা এবং শারীরিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেকেই বলছেন, অনলাইন শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও উপেক্ষা করা যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা জানান, অতিরিক্ত মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং খিটখিটে মেজাজের প্রবণতা বাড়ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের সমস্যা, ঘাড় ও পিঠে ব্যথা এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা দেখা দিচ্ছে।

সামাজিক দিক থেকেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাস্তব জীবনের মেলামেশার চেয়ে ভার্চুয়াল জগতে বেশি সময় কাটানোর ফলে শিশুদের সামাজিক দক্ষতা হ্রাস পাচ্ছে এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট অ্যান্ড ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, অনলাইন ক্লাস কোনো বাধ্যতামূলক ক্লাস নয়। বিশেষ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্লাসে যেতে হতে পারে। আমরা করোনাকালীন সময়ে অনলাইন ক্লাসে গিয়েছি। দেশে যখন সংঘাতময় পরিস্থিতি হয়, তখন মানুষকে অনলাইন ক্লাসে যেতে হয়। এখন বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটে একটি বৈশ্বিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যার কারণে আমাদের অনলাইন ক্লাসে যেতে হতে পারে। সুতরাং এই মুহূর্তে জ্বালানি সংরক্ষণের যে কয়েকটি বিকল্প উপায় রয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো অনলাইন ক্লাসে যাওয়া। এক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাস একদম ক্লাস না করার চেয়ে ভালো।

তিনি আরও বলেন, অনলাইন ক্লাসের কারণে শিশুদের মধ্যে স্ক্রিন আসক্তি, শারীরিক নড়াচড়া কমে যাওয়া এবং ওজন বৃদ্ধি হতে পারে। তবে আমরা যদি সচেতন থাকি এবং অনলাইন ক্লাসের পাশাপাশি ফিজিক্যাল একটিভিটি, ব্যায়াম ও হাঁটাচলা নিশ্চিত করি, তাহলে এসব সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

সরকারের করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, অনলাইন ক্লাসের পাশাপাশি কীভাবে এটি পরিচালনা করতে হবে, সে বিষয়ে সরকারকে সচেতন হতে হবে। এ বিষয়ে একটি নীতিমালা বা গাইডলাইন তৈরি করা প্রয়োজন, যেমনটি করোনাকালীন সময়ে করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান সময়ের আলোকে বলেন, আমি মনে করি, বৈশ্বিক এই সংকটময় সময়ে সরকার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি, ইতিবাচক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। এর ফলে পর্যায়ক্রমে সাধারণ নাগরিকরা সুফল ভোগ করবেন এবং সরকারের প্রতি আস্থাও বাড়বে।



  বিষয়:   ইরান  যুদ্ধ  হরমুজ  জ্বালানি  অনলাইন  ক্লাস  বাংলাদেশ 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: