লাইনে আটকা জীবিকার চাকা

অলিউল ইসলাম

জাতীয়

ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল মিলছে না। শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অনেককেই। তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে দিন

2026-04-06T02:13:14+00:00
2026-04-06T02:13:39+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
লাইনে আটকা জীবিকার চাকা
অলিউল ইসলাম
প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ২:১৩ এএম  আপডেট: ০৬.০৪.২০২৬ ২:১৩ এএম
জ্বালানি নিতে ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন। ছবি : সময়ের আলো
ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল মিলছে না। শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অনেককেই। তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে দিন পার হওয়ায় ঘরে ফিরছে না আয় বরং বাড়ছে হতাশা। বিশেষ করে রাস্তায় নামতে পারছেন না রাইডশেয়ার চালকরা, চুলা জ্বলছে না ছোট হোটেল আর টং দোকানে। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না পণ্যবাহী গাড়ি। 

জ্বালানি সংকট এখন শুধু যানবাহনের চাকা নয়, থামিয়ে দিচ্ছে হাজারো মানুষের জীবিকার চাকাও। সব মিলিয়ে নীরব এক অচলাবস্থার মধ্যে ঢুকে পড়ছে দেশ। এই সংকটের সবচেয়ে বড় বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই, যাদের প্রতিদিনের আয়-রোজগার এখন অনিশ্চয়তার দোলাচলে।

রাইডাররা বেশি বিপাকে : রোববার রাজধানীর গুলশান, আসাদগেটসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পগুলোতে দেখা যায়, কয়েক কিলোমিটারজুড়ে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন। অনেকে আগের রাত থেকেই অপেক্ষা করছেন। কিন্তু পাম্পে গিয়ে অনেকেই জানতে পারছেন, তেল শেষ। অপেক্ষমাণ ব্যক্তিদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, সরবরাহ সীমিত থাকায় চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

আসাদগেটের সোনার বাংলা পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে বাইক রাইডার শাহজাহান কবীর বলেন, রাইড করে সংসার চালানো যাচ্ছে না। আগের তুলনায় এখন অর্ধেকও ট্রিপ পাই না। তার সঙ্গে প্রতিবেদকের যখন কথা হয়, তখন লাইনে তার দাঁড়িয়ে থাকার সাড়ে তিন ঘণ্টা পার হয়েছে। এতক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে বাইক ঠেলে ঠেলে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন তিনি।

রাইডশেয়ারে মোটরসাইকেল চালানো শাহজাহান দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে যতটুকু অকটেন পাবেন, তা দিয়ে বেশিক্ষণ চালাতে পারবেন না। সেটাও তার দুশ্চিন্তার কারণ। এ সময় পাশে থাকা আরেক রাইডার আইনাল হক বলেন, আমরা তো রাইডশেয়ার করি। আমাদের জন্য খুব মুসিবত এখন। 

তারা দুজনই বলেন, বাইকারদের কোনো সংগঠন নেই, পাওয়ার নেই। সবাই বাইকারদের দোষ দেয়। মন্ত্রীও কত সুন্দর করে বাইকারদের দোষ দিয়ে বলে, বাইকাররা তেল নিয়ে স্টক করছে। স্টকে তেল রেখে কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে?

গুলশান ফিলিং সার্ভিস স্টেশনের সামনে দেখা যায়, কয়েক কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ লাইন। সেখানে তেলের জন্য অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেল চালক নুরুল ইসলাম বলেন, আমি তেলগেটের পাশের পাম্পে গিয়েছিলাম। ওটা বন্ধ ছিল। তারপর বাসস্ট্যান্ডেও বন্ধ ছিল। আসাদগেটের একটায় খোলা ছিল। কিন্তু ভিড়ের কারণে ওখানে সিরিয়াল পাই নাই। তাই এখানে এসেছি। এভাবে পাম্পে পাম্পে ঘুরতে থাকলে ট্রিপ মারতে পারব না বলে তিনি আক্ষেপ করেন। 

ক্ষুদ্র ব্যবসা ও হোটেল খাতে সংকট : এলপিজির দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে ছোট হোটেল, টং দোকান ও পথের ব্যবসা মারাত্মক চাপে পড়েছে। যাদের ব্যবসা গ্যাসনির্ভর, তাদের অনেকেই কার্যত অচল হয়ে পড়ছেন। রোববার মোহাম্মদপুরের শেরশাহ সুরী রোডের একটি হোটেল বন্ধ পাওয়া যায়। সাধারণত শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষজন এখানে খেতে আসেন। এই হোটেলে তুলনামূলকভাবে কম দামে খাবার পাওয়া যায়। হোটেলের পাশে বসা টং দোকানদার জানান, সিলিন্ডারের খরচ বেশি হওয়ার কারণে হোটেলটি বন্ধ আছে। এ সময় তিনি নিজের দোকানের চুলা দেখিয়ে বলেন, আমার চুলাও বন্ধ। চা বিক্রি করতে পারছি না।

একই অবস্থা টাউন হল কাঁচাবাজারের টং দোকানদার লাবু মিয়ারও। তিনি বলেন, সিলিন্ডারের দাম বেশি। তার ওপর সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কোম্পানিগুলো নাকি সিলিন্ডার ছাড়ে না। আমার দোকানের সিলিন্ডারও শেষ হয়ে যাচ্ছে। ওদিকে চায়ের দাম তো বাড়াতে পারছি না। আমার এখানে গরিব মানুষ চা-বন খায়। এভাবে চলতে থাকলে আমারও চুলা বন্ধ রাখতে হবে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা শিমুল হাসান টিউশনি করে সংসার চালান। বাসায় লাইনের গ্যাস নিয়মিত না থাকায় বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে তাকে। এতে মাসিক খরচ বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, সাড়ে ১২ কেজির এলপিজির সিলিন্ডার এখন স্থানীয় বাজারের দোকানে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহে এই সিলিন্ডার পাওয়া গেছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। যদিও সরকারি রেট বা নির্ধারিত মূল্য আরও কম। কিন্তু প্রায় বেশিরভাগ দোকানেই সরকারি রেটে সিলিন্ডার বিক্রি করা হয় না। এর মাঝে জ্বালানি সংকট বাড়তে থাকলে বাসা-বাড়িতে রান্নাও বন্ধ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

মোহাম্মদপুর এলাকায় বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহ করেন জসিম এন্টারপ্রাইজের মো. জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, একে তো দাম বেশি তার ওপর সিলিন্ডার সংকট। সব মিলিয়ে কাস্টমারদের চাপে অধিকাংশ সময় মোবাইল বন্ধ রাখি। প্রয়োজনীয় কল দেওয়ার জন্য মাঝেমধ্যে চালু করি। কেনাবেচা একদম নেমে গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব বিপদে আছি।

বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী : জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারে। পরিবহনব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে এবং ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। 

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শ্যামবাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানির অভাবে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান সময়মতো পণ্য আনতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ফলে পণ্য সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে এবং পরিবহন খরচ বাড়ছে।

টাউন হল কাঁচাবাজারের দোকানদার জহির বলেন, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে বাজারসহ সবখানে তার প্রভাব পড়েছে। শাকসবজির দামে আগুন লেগেছে। পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা, বেগুনসহ সব সবজির পাইকারি দামই এখন ১০০ টাকার কাছাকাছি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে যে পণ্য এক ট্রিপে নির্দিষ্ট খরচে আনা যেত, এখন তা আনতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ লাগছে। এতে প্রতি কেজি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে। 

কারওয়ান বাজারের একাধিক আড়তদার জানান, শুধু পরিবহন খরচ নয়, জ্বালানি সংকটের কারণে সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি বিবেচনায় অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করছেন। ফলে বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এদিকে খুচরা বাজারে এর প্রভাব আরও বেশি। 

ক্রেতারা জানান, প্রতিদিনই দাম বাড়ছে কিন্তু আয়ের কোনো বৃদ্ধি নেই। ফলে অনেক পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে পরিবহন সংকটের কারণে অনেক সময় পণ্য দেরিতে পৌঁছানোয় তা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে সবজি ও ফলমূলের ক্ষেত্রে এই ক্ষতি ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে, যা তারা দামের সঙ্গে সমন্বয় করে নিচ্ছেন।

পরিবহন খাতে চরম ভোগান্তি : জ্বালানি সংকটে পরিবহন খাতেও চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের ঘাটতির কারণে বাস, ট্রাক ও নগর পরিবহন, সব ক্ষেত্রেই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে যাত্রী পরিবহন যেমন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, তেমনি পণ্য সরবরাহব্যবস্থাও মারাত্মক চাপে পড়েছে। রাজধানীর কল্যাণপুর, গাবতলী, মহাখালীসহ বিভিন্ন টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে বাস ছেড়ে যাচ্ছে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পারায় অনেক পরিবহন বিলম্বিত হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব বাস বা কোচের নিজস্ব ফিলিং স্টেশন নেই, তারা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। পরিবহন মালিকরা বলছেন, অনেক গাড়িকে এখন অর্ধেক ট্যাঙ্ক নিয়ে যাত্রা শুরু করতে হচ্ছে। পরে পথে বিভিন্ন জেলা বা উপজেলা শহরের পাম্পে গিয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে শুধু সময় নষ্ট হচ্ছে না বরং পুরো রুটের শিডিউল ভেঙে পড়ছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, স্বাভাবিক সময়ে একটি দূরপাল্লার বাস একটানা যাত্রা সম্পন্ন করতে যে পরিমাণ ডিজেল প্রয়োজন হয়, বর্তমানে তা একবারে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে একই যাত্রায় একাধিকবার জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা পরিবহন খরচ ও সময়- দুটোই বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ভোগান্তিও বেড়েছে বহুগুণ। অনেক যাত্রীকে নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা পরে বাসে উঠতে হচ্ছে। আবার পথে অতিরিক্ত বিরতির কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগছে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।

পণ্য পরিবহনেও একই চিত্র। ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানচালকরা জানান, তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। পরিবহনসংশ্লিষ্টরা আরও জানান, জ্বালানির সংকটের কারণে অনেক ট্রাক ও বাস অস্থায়ীভাবে চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের আয় কমে যাচ্ছে। চালক, হেলপারসহ এই খাতের সঙ্গে জড়িত লাখো মানুষের জীবিকা সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিবহন খাতের এই অচলাবস্থা আরও প্রকট হবে। এতে দেশের সার্বিক সরবরাহব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে।

কৃষি উৎপাদন ঝুঁকিতে : জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে কৃষিতে। বিশেষ করে চলমান বোরো মৌসুমে ডিজেলের সংকটে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা দেশের প্রধান খাদ্য উৎপাদনের ওপর সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করেছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্তত ১৫-১৬টি জেলায় কৃষকরা সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। রংপুর, রাজশাহী, নওগাঁ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নাটোরসহ বিভিন্ন এলাকায় সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে অনেক জমিতে ধানক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে।

কৃষকরা জানান, বোরো ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, যখন গাছে শীষ গঠন হয়, ঠিক তখনই সেচ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসার আশঙ্কা করছেন তারা। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক দিন পরপর সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হলেও জ্বালানি না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশে বোরো মৌসুম দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৫০-৫৫ শতাংশ জোগান দেয়। আর এই বোরো আবাদ প্রায় ৯০ শতাংশই সেচনির্ভর। এর বড় অংশই চলে ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র দিয়ে। ফলে ডিজেলের সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাতও সরাসরি খাদ্য উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু সেচই নয়, কৃষি যন্ত্রপাতি চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্রাক্টর, থ্রেশার, সেচ পাম্প, সবই জ্বালানির অভাবে অনেক জায়গায় বন্ধ হয়ে আছে। ফলে চাষাবাদের পাশাপাশি ফসল কাটা ও মাড়াই প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে যেসব জায়গায় ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। অনেক কৃষক অভিযোগ করছেন, সরকারনির্ধারিত দামের চেয়ে ১৫ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিয়ে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত খাদ্যের বাজারমূল্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক কৃষকই জানিয়েছেন, তারা পাম্পে পাম্পে ঘুরেও প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছেন না। কোথাও আবার খোলা বাজারে সীমিত পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এই সংকটের মধ্যে বিকল্প হিসেবে সৌরচালিত সেচব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন কিছু কৃষক। তবে এখনও দেশের প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি সেচযন্ত্র ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই বিকল্পব্যবস্থা খুব সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। কৃষিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বোরো উৎপাদনে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে। এতে শুধু কৃষকের ক্ষতি নয়, সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   দীর্ঘ  লাইন  আটক  জীবিকা  চাকা 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: