জাতীয় দলে টানা ১৩ বছর খেলেছেন। এএইচএফ কাপ, এশিয়া কাপ এবং এশিয়ান গেমসের একাধিক আসরে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে ফরহাদ আহমেদ শিতুলের। জাতীয় দলের পাশাপাশি বয়সভিত্তিক দলেও তার ছিল উজ্জ্বল-উচ্ছল উপস্থিতি। ফর্ম কিংবা ফিটনেসের অজুহাতে কখনো তাকে দলের বাইরে থাকতে হয়নি।
লাল-সবুজ জার্সিতে এক যুগেরও বেশি সময় টানা খেলা সেই শিতুল এবার এশিয়ান গেমস হকি বাছাইপর্বে সুযোগ পাননি। ফিটনেস টেস্টে কোচের মন ভরাতে না পারায় প্রথমবার জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন রাজশাহীর এ ডিফেন্ডার। তবে নিজের বাদ পড়া নিয়ে কারও প্রতি ক্ষোভ কিংবা অভিমান নেই শিতুলের। তার একটাই চাওয়া, এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে যেন দল ভালো করে। চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিয়ে ঘরে ফেরে। যেটা শিতুলরা পূর্বে করে দেখিয়েছেন।
থাইল্যান্ডে চলছে এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্ব। ইতিমধ্যে দুই ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে। তাতে আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে পারেনি। চাইনিজ তাইপের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ৪-৩ গোলে জয় এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০ বছর পর ৩-২ গোলে হারের তেতো স্বাদ নেয় লাল-সবুজরা। আজ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ। সকাল ১০টায় ম্যাচটি শুরু হবে।
জিতলে সেমিফাইনালে উঠবে, হেরে গেলে খেলতে হবে স্থান নির্ধারণীতে। যা বাংলাদেশের জন্য বিরাট লজ্জার। দলের এমন অবস্থার পরও আশাবাদী শিতুল। তার বিশ্বাস, দল ঘুরে দাঁড়াবে এবং চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিয়ে ঘরে ফিরবে। দলের নাকি সেই সামর্থ্য আছে জানান শিতুল।
তবে হকি অঙ্গনে গুঞ্জন, শিতুল, নাঈম, জিমিদের মতো অভিজ্ঞরা না থাকায় থাইল্যান্ডে ভালো করতে পারছে না দল। যদিও এমন খবর উড়িয়ে দিয়েছেন জাতীয় দলের কোচ মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান। এ বিষয়ে হকি ফেডারেশনের এক সূত্র সময়ের আলোকে জানিয়েছে, ‘ঘটনা মিথ্যা নয়। শিতুল, নাঈমরা সিনিয়র এ কারণে তাদের বাদ দেয়া হয়েছে।’ শিতুলকে বাদ দেওয়ায় নির্বাচক প্যানেলের পাঁচ জনের তিনজন সেদিন আপত্তি জানান। যদিও তাদের চাওয়া উপেক্ষা করে শিতুলকে বাইরে রেখেই দল ঘোষণা করে ফেডারেশন।’
সিনিয়র হওয়ার কারণে বাদ পড়ার বিষয়টি শিতুলের আমলে আনা হলে সময়ের আলোকে তিনি জানান, ‘এটা আমার জানা নেই। একজন প্লেয়ারের বয়স যদি ৩০/৩১ হয়, এতেই যদি সে সিনিয়র হয়ে যায় তাতে আমার বলার কিছু নেই। আমি এতটুকু বলতে চাই, আমার সঙ্গে যা ঘটেছে সে বিষয়ে কিছু বলব না। তবে এতটুকু বলব সিনিয়র-জুনিয়র কম্বিনেশনে আগেও দল হয়েছে, এবারের দলে সিনিয়রের সংখ্যা কিছুটা কম। অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে কখনো সাফল্য আনা যায় না।
তারপরও ফেডারেশন যদি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয় সিনিয়র ছাঁটাইয়ের তাতে আমাদের মতো প্লেয়ারের আসলে কী বলার আছে। তারা হলেন আমাদের অভিভাবক।’ হকি দল চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিয়ে ঘরে ফিরব এবং সেই দলকে সরকারের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেবে- এমন দৃশ্য দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন শিতুল। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা আমিনুল হক ভাইয়ের মতো একজন ক্রীড়াবান্ধব প্রতিমন্ত্রী, একজন সত্যিকারের অভিভাবক পেয়েছি। আমি জানি উনি আমাদের হকির যে সমস্যাগুলো রয়েছে, তা সমাধানে ভূমিকা রাখবেন। আমিনুল ভাই-ই পারবেন হকির সমস্যা সমূলে উৎপাটন করে একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে। ওনার হাত ধরেই আমরা হকি খেলোয়াড়রা আবারও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাব।’
সময়ের আলো/আআ