কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে আদালত নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে করে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা এই মামলায় নতুন গতি আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (৬ এপ্রিল) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলামকে আদালতে তলব করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাকে মামলার বর্তমান অবস্থা ও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করতে হবে।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ থেকেই পিবিআইকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আদালতে তদন্তের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে, তবে এখনই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
আরও পড়ুন
২০১৬ সালের এই হত্যাকাণ্ডের এক দশক পার হলেও এখনো অপরাধীদের শনাক্ত করা যায়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন। তার ভাষায়, বহুবার বিভিন্ন সংস্থার কাছে সাক্ষ্য দিয়েও কোনো ফল না পাওয়ায় পরিবার চরম হতাশায় রয়েছে। তবে আদালতের এই তলবের ঘটনায় তারা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।
ঘটনার পর প্রথমে থানা পুলিশ, পরে ডিবি ও সিআইডি- এভাবে একাধিক সংস্থা মামলাটি তদন্ত করে। কিন্তু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২০ সালের অক্টোবরে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এটি ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার অধীনে রয়েছে, যা তদন্তের ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী তনু। পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় সেনানিবাসের একটি জঙ্গল এলাকা থেকে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন তার বাবা।
এএডি/