মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সবকিছু এলোমেলো করে দিচ্ছে। যুদ্ধের কারণে দেশে যে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জীবনের প্রতিটি বাঁকে। ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবিকায় টান পড়েছে। পণ্যমূল্য বাড়তে শুরু করেছে সামনে আরও বৃদ্ধির হাঁকডাক চলছে। জ্বালানি সংকটের কারণ দেশের অর্থনীতির প্রাণ কৃষি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, একই সঙ্গে সারেরও সংকট তৈরি হচ্ছে। এ কারণে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বড় আশঙ্কা রয়েছে। চোখ রাঙাচ্ছে বিদ্যুতের সংকট ও লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি। এ কারণে গরমে যেমন ভুগতে হবে, তেমনি শিল্পের উৎপাদনও ব্যাহত হবে অনেকটা। সংকটের কারণে অনেক মানুষ চাকরি হারাবে, কমে যাবে আয়। ফলে জীবনযাত্রা অনেক কঠিন হয়ে পড়ছে। এভাবে ‘এক জ্বালানি’ ডেকে আনছে বহু সংকট।
শুধু জীবনযাত্রা যে কঠিন করে তুলছে তা নয়, জ্বালানি সংকট দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত রফতানি আয় কমতে শুরু করেছে। গত মাস মার্চে দেশের রফতানি আয় কমেছে ১৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। রোজা ও ঈদের কারণে গত মাসে প্রায় সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এলেও আগামীতে এ খাতেও বড় ধাক্কা লাগবে। কারণ ১ কোটিরও বেশি বাংলাদেশি প্রবাসীর সিংহভাগই থাকেন মধ্যপ্রাচ্যে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসীরাও দেশে ফিরতে বাধ্য হবেন। তখনই বড় আঘাতটি আসবে রেমিট্যান্সে।
খাদ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কার্যক্রম ইতিমধ্যেই বাধাগ্রস্ত হতে শুরু করেছে। পণ্য পরিবহন ব্যয় এখনই বেড়ে গেছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। এই ব্যয় সামনে আরও বাড়বে। যার প্রভাব সরাসরি পড়বে পণ্যমূল্যে। ফলে বেড়ে যাবে মূল্যস্ফীতি। সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থমকে যেতে পারে এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধিও কমে যেতে পারে বলে মত অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের।
এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যেই দেশের মানুষের জীবনযাত্রায় পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি যারা ব্যবহার করছেন তাদের দুর্ভোগ তো অনেক বেড়ে গেছে। তেল মিলছে না সহজে। সরকার জ্বালানির দাম না বাড়ালেও বাজারে অনেক রকম কারসাজি শুরু হয়েছে। পাম্পের বাইরে খোলা বাজারে সরকারি দামের চেয়ে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। এভাবে জ্বালানির বাজারে নানারকম নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। সুতরাং বলাই যাই জ্বালানির নেতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। এলপিজির দাম বেড়েছে। সারের দাম বিশ্ববাজারে বেড়েছে, দেশেও বাড়বে। এই বোরো মৌসুম হয়তো আগের সারেই হয়ে যাবে, কিন্তু আগামী আমনে সারের সংকট দেখা দেবে। ফলে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ব্যাহত হবে। খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম ইতিমধ্যেই বলেছে, খাদ্য সংকট দেখা দেবে বিশ্বব্যাপী, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। খাদ্য সংকট ও মূল্যস্ফীতি বাড়া মানেই সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেসব পণ্য আমদানি করা হয় এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করা হয় তার ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। কারণ শিপিং কষ্ট বাড়ছে, ইন্স্যুরেন্স ব্যয় বাড়ছে। উৎপাদন ব্যয় বেড়েছ। রফতানি কমবে। গালফ কান্ট্রিগুলোতে যদি যুদ্ধ চলতেই থাকে হামলা যদি আরও বাড়ে তা হলে প্রবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং রেমিট্যান্সের কমবে। সব মিলিয়ে জ্বালানি সংকটের কারণে জিডিপি গ্রোথ কমে যাবে।’
চলমান সংকট ও সামনের আরও জটিল সংকট মোকাবিলা করার জন্য কি করা যেতে পারে। এ বিষয়ে ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সংকটের সময় সরকারের তরফ থেকে যেমন অনেক কিছু করার আছে, তেমনি দেশের নাগরিকের দায়িত্বশীল হওয়ার দরকার আছে। এখন খাদ্য নিরাপত্তা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এই দুটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যই সরকারকে বেশি কাজ করতে হবে। কোনোভাবেই যেন দেশে সারের সংকট না হয়, ডিজেলের যেন কোনো সংকট না হয়। বিকল্প সোর্স থেকে এগুলো আমদানি করে সরবরাহ চ্যানেল সচল রাখতে হবে। কারণ কোনোভাবেই কৃষিকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না। সরকারকে জ্বালানি নিরাপত্তা ও খাদ্য নিরাপত্তায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। বড় প্রকল্প নেওয়া যাবে না। সংকটে টিকে থাকার চেষ্টা-কৌশল নিতে হবে।’
জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে দেশে যে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বে, জীবনযাত্রা কঠিন হবে সে বিষয়ে খোদ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীই কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জ্বালানি সংকটে বিশ্বব্যাপী পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর প্রভাবে অন্যান্য দেশের মতো আগামীতে বাংলাদেশেও পণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। জ্বালানি সংকট মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। শুধু জ্বালানি নয়, এর প্রভাব পড়ছে সব ধরনের পণ্য, খাদ্যদ্রব্য এবং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। ফলে আগামী দিনে দ্রব্যমূল্য বাড়বে; এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের ওপর চাপ কম রাখতে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে একসময় এই চাপ বহন করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে। যদি সরকারি তহবিল এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে, তা হলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে। তাই বিষয়টি বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে দেশের বাজারে ইতিমধ্যেই অনেক ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। যুদ্ধের কারণে পোলট্রি খাদ্য আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মুরগির বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের পর থেকেই এই এক-দেড় মাসে মুরগির বাজারে কেজিতে দাম বেড়েছে ১০০ টাকারও বেশি। এক মাস আগে সোনালি মুরগির কেজি ছিল ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৩০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির কেজিও ১৫০ থেকে বেড়ে ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। এভাবে বাজারে সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে। জ্বালানি সংকটের দোহায় দিয়ে ভোজ্য তেলের দামও বাড়ানো হয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে মণপ্রতি পাম অয়েলে দাম বেড়েছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, আর সয়াবিনে বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।
খাতুনগঞ্জে ভোজ্য তেল ব্যবসায় জড়িত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে সিটি গ্রুপ ও টিকে গ্রুপের বে-ফিশিং সয়াবিন তেল রয়েছে। এসব সয়াবিন তেল মণপ্রতি ৭ হাজার ৩২০ থেকে ৭ হাজার ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে বাজারে আবুল খায়ের গ্রুপের বাটারফ্লাই, টিকে গ্রুপের বে-ফিশিং এবং মেঘনা গ্রুপের পাম অয়েল বিক্রি হয়েছে মণপ্রতি ৬ হাজার ৫৩০ থেকে ৬ হাজার ৫৪৫ টাকা। এক মাস আগেও প্রতি মণ পাম অয়েলের দাম ছিল ৫ হাজার ৯০০ টাকার কম। সয়াবিন তেলের দামও মণপ্রতি আড়াইশ টাকার মতো কম ছিল। সিন্ডিকেট করে কোম্পানিগুলো গত এক মাস ধরেই বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এ কারণে ১৯০ টাকার বোতলজাত এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়। একইভাবে খোলা সয়াবিন তেলেরও দাম বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে টিসিবির তথ্য বলছে, গত এক মাসের ব্যবধানে মসুর ডালের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ, চিনির দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ, ডিমের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এ ছাড়া চাল, আটা, ময়দা, সব ধরনের মাছের দামও বেড়েছে। তাই এভাবে গত এক মাসে অনেক পণ্যের মূল্য বেড়ে গেছে। আর ভোগ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিই দেশের সাধারণ মানুষকে বেশি ভাবাচ্ছে।
এ বিষয়ে বাজার বিশ্লেষক ও ক্যাবের সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে সবকিছুর ওপরই পড়বে। এক কথায় জীবনযাত্রার প্রতিটা রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রভাব পড়বে। কৃষি উৎপাদন কমে যাবে, খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে। শিল্প বন্ধ হবে, শপিংমলে সময় কমিয়ে দেওয়ায় অনেকেই চাকরিচ্যুত হবে। কোনো খাতই এর প্রভাবের বাইরে থাকবে না। তাই বলা যায়, সামনে একটি কঠিন সময় আসছে। কঠিন ও ভয়ংকর অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে আমাদের।
তিনি বলেন, আমদানিকৃত পণ্যের জাহাজ ভাড়া-পরিবহনব্যয় বেড়ে যাবে। পরিবহনব্যয় বাড়লে স্বাভাবিকভাবে পণ্যমূল্য বেড়ে যাবে। পণ্য আমদানি দেরি হলে পণ্যের সাপ্লাই চেইনে বিঘ্ন ঘটবে। আর দেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা তো পণ্যমূল্য বাড়ানোর জন্য অজুহাত খোঁজে সবসময়। এই সংকটের সময়ও তারা সুযোগ নিয়ে পণ্যমূল্য আরও বাড়িয়ে দেবে। তাই সরকারকে বাজারে কঠোর মনিটরিং করতে হবে।
সংকটের সময় সরকারের করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যেই জ্বালানি সাশ্রয় নীতি নিয়েছে, অফিস-আদালতের সময় কমিয়েছে। এখন ব্যবসায়ীদের আস্থায় আনা দরকার। সংকটের সময় যেন সবাই পাশে থাকে। সরকার বলছে তেল আছে কিন্তু পাম্পে পাওয়া যাচ্ছে না তার মানে পেট্রোল পাম্পের মালিকরা সিন্ডিকেট করেছে। পণ্যের ক্ষেত্রে যেন এমনটি না হয়। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকার যেন ব্যবসায়ীদে কব্জায় চলে না যায় গেলে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না সরকার। তখন ব্যবসায়ীদের চাপে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
দেশের বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে মানুষের দৈনন্দিন খরচ। ভোজ্য তেল, সবজি, রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে যাতায়াত প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বাড়ার নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং পরিবহনব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে ধীরে ধীরে মূল্যচাপ বাড়ছে। ফলে আয় স্থির থাকলেও মানুষের খরচ বাড়তে শুরু করায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়া, এলপিজি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি এবং পরিবহনব্যয় বাড়ার কারণে পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয়ের হিসাব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি খাতে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে এই ব্যয়চাপ আরও বাড়তে পারে।
অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো আয়ের তুলনায় ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান আংশিক চালু রয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে উৎপাদন কমে গেছে। এতে অনেক শ্রমিক কাজ হারাচ্ছেন বা কম বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। শ্রমিকদের অনেকেরই ওভারটাইম কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মাসিক আয় কমে যাচ্ছে। একই সময়ে খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও যাতায়াতব্যয় বাড়ায় তাদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। পরিবহন খাতেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক স্থানে যানবাহন চলাচল কমে গেছে। ফলে চালক, হেলপার এবং রাইড শেয়ারিং সেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয় কমছে।
দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন খাতে। ডিজেল সরবরাহে ঘাটতির কারণে সড়কে প্রাইভেটকার, বাস, মিনিবাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বাসের চলাচল কমেছে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। এতে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে অফিস শুরু ও ছুটির সময়ে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠছে। পণ্য পরিবহন ভাড়া তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। কমেছে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার। নৌযান চলাচল কোথাও কোথাও বন্ধ হয়ে গেছে।
জ্বালানি তেলের সরবরাহে টান পড়ায় সারা দেশে পণ্য পরিবহনব্যয় হঠাৎ বেড়ে গেছে। ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া পাঁচ হাজার থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকা থেকে ১৫ হাজার টাকায় পণ্য পরিবহন সম্ভব ছিল, এখন তা ৪৫-৪৮ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। দাম বাড়লেও পণ্য না পাঠিয়ে উপায় নেই, রফতানি আদেশ ধরতে হবে। চট্টগ্রাম রুটে ভাড়া ২০-২২ হাজার টাকায় উঠেছে। তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, এতে রফতানিমুখী পণ্যের খরচ বাড়ছে।
বগুড়া থেকে চট্টগ্রামে পাঠাতে ট্রাক ভাড়া ছিল ২৪-২৫ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে ৩৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। সিলেটে পাঠাতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা, আগে ছিল ৩০ হাজার টাকা। ঢাকায় পণ্য আনতে এখন গুনতে হচ্ছে ২৫ হাজার টাকা, আগে ছিল ১৫-১৬ হাজার টাকা।
সময়ের আলো/আরবিএন