যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিভক্তি

সময়ের আলো ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি থেকে হঠাৎ যুদ্ধবিরতি- সবকিছু যেন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানকে হুমকি

2026-04-09T00:47:13+00:00
2026-04-09T04:15:18+00:00
 
  সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬,
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিভক্তি
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৭ এএম  আপডেট: ০৯.০৪.২০২৬ ৪:১৫ এএম
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননজুড়ে গতকাল ইসরাইলি বাহিনী একযোগে হামলা চালায়। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে অনেক স্থাপনা। ছবি : আলজাজিরা
সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি থেকে হঠাৎ যুদ্ধবিরতি- সবকিছু যেন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানকে হুমকি দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ‘একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’। অন্যদিকে সেই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ঘোষণা দেন- দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত থাকবে। এই নাটকীয় পরিবর্তন শুধু কূটনৈতিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও বড় এক ঝড় তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রে। 

এই সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি স্পষ্টভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, ট্রাম্প আসলে ‘বের হওয়ার পথ খুঁজছেন’ এবং এই যুদ্ধ অপ্রয়োজনীয়। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা এটিকে দেখছেন শক্তিশালী কৌশল হিসেবে। সবমিলে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে।

হুমকি থেকে যুদ্ধবিরতি : ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের এই দ্রুত পরিবর্তন অনেককেই বিস্মিত করেছে। কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থানে ছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তা হলে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক হামলা চালাবে। সেই হামলার লক্ষ্য হবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো- বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং অন্যান্য স্থাপনা। এই ধরনের হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং বলেছিলেন, এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। 

কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। নির্ধারিত সময়সীমার প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে ট্রাম্প হঠাৎ করেই অবস্থান বদলান। তিনি ঘোষণা দেন, ইরান যদি নিরাপদভাবে প্রণালি খুলে দেয়, তা হলে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখা হবে। এই ঘোষণার পরপরই ইরানও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা জানিয়ে দেয়, সাময়িকভাবে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অনুমতি দেবে।

এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে পাকিস্তানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শেষ মুহূর্তে তাদের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ এই সমঝোতা সম্ভব করে। এর ফলে একটি সম্ভাব্য বড় সংঘাত আপাতত এড়ানো গেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি স্থায়ী সমাধান নয়। বরং এটি একটি সাময়িক বিরতি, যার পর আবার উত্তেজনা বাড়তে পারে।

ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা : এই সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আসলে একটি ব্যর্থ কৌশলের ফল। সেনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সরাসরি বলেন, ট্রাম্প ‘তার অযৌক্তিক হুমকি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন’। তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, তিনি এই যুদ্ধকে একটি ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

প্রগতিশীল নেতা আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই দুই সপ্তাহের চুক্তিতে বাস্তবে কিছুই বদলায় না। তার মতে, ট্রাম্প ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে যে ধরনের হুমকি দিয়েছেন, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তিনি এটিকে গণহত্যার হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আবারও ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরানোর দাবি জানান।

হাউসের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিজও একই সুরে কথা বলেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের আচরণ ‘অস্থিতিশীল, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অগ্রহণযোগ্য’। তার মতে, এই যুদ্ধের কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য বা পরিকল্পনা নেই। যুক্তরাষ্ট্রকে এমন একটি সংঘাতে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে, যার শেষ কোথায়, তা কেউ জানে না।

ডেমোক্র্যাটদের এই প্রতিক্রিয়া দেখায়, তারা শুধু যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন। বরং তারা পুরো যুদ্ধকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। তাদের মতে, এই যুদ্ধ শুরুই করা উচিত হয়নি এবং এখন ট্রাম্প সেই ভুল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন।

ট্রাম্পকে সরানোর দাবি : ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তারা আরও কঠোর পদক্ষেপের কথাও বলছেন। সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিসহ অনেক নেতা ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে অভিশংসন প্রক্রিয়া বা সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করা যেতে পারে।

এই দাবির পেছনে তাদের যুক্তি হলো, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তগুলো অস্থির এবং বিপজ্জনক। তারা মনে করছেন, একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি দায়িত্বশীল আচরণ করছেন না। তার হঠাৎ সিদ্ধান্ত এবং হুমকির ভাষা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সমালোচনা শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। 

ট্রাম্পের কিছু সাবেক মিত্রও তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। মার্জোরি টেলর গ্রিন এবং ক্যান্ডেস ওউয়েন্স তার বক্তব্যকে ‘অশুভ’ এবং ‘পাগলামি’ বলে উল্লেখ করেছেন। এটি দেখায়, রাজনৈতিক বিভাজন দলীয় সীমা অতিক্রম করেও বিস্তৃত হয়েছে।

রিপাবলিকানদের সমর্থন : অন্যদিকে রিপাবলিকানদের একটি বড় অংশ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। তাদের মতে, এটি কোনো দুর্বলতা নয়, বরং একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। ফ্লোরিডার সিনেটর রিক স্কট বলেন, এটি একটি ‘দারুণ প্রথম পদক্ষেপ’ এবং এটি দেখায় শক্ত অবস্থান নিয়ে কীভাবে কূটনৈতিক ফলাফল আনা যায়।

সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। তিনি বলেছেন, কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, ইরানের কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের পুরস্কৃত করা উচিত নয়। তার মতে, ভবিষ্যতে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হতে পারে।

কংগ্রেসম্যান ড্যান ক্রেনশ ট্রাম্পের ভাষাকে ব্যাখ্যা করেছেন ভিন্নভাবে। তিনি বলেন, ট্রাম্প ‘ক্ষমতার ভাষায় কথা বলেন’, যা প্রতিপক্ষরা বোঝে। তার মতে, ট্রাম্পের বক্তব্যকে সরলভাবে না দেখে কৌশল হিসেবে বোঝা উচিত।

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   যুদ্ধবিরতি  যুক্তরাষ্ট্র  রাজনীতি  বিভক্তি 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: