হিজাব বা মাথায় স্কার্ফ পরায় আজারবাইজানের একটি স্কুলের কয়েকজন ছাত্রীকে ক্লাসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীদের কান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
২৯ সেপ্টেম্বর সুমগাইত শহরের স্কুল নম্বর-৬-এর ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কয়েকজন ছাত্রীকে মাথায় হিজাব বা স্কার্ফ পরা অবস্থায় স্কুল থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। তাদের কয়েকজনকে কাঁদতেও দেখা গেছে।
আজারবাইজানের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজাব পরার কারণে ওই ছাত্রীদের ক্লাসে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়।
এর আগে, ২১ সেপ্টেম্বর দেশটির মন্ত্রিসভা স্কুলের পোশাকবিধিতে পরিবর্তন আনে। নতুন নিয়মে এমন পোশাক পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা নির্ধারিত স্কুল ইউনিফর্মের একরূপতা নষ্ট করে অথবা ‘ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তবে নতুন নিয়মে হিজাব বা মাথায় স্কার্ফের কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। কোন কোন ধর্মীয় পোশাক স্কুলে নিষিদ্ধ হবে, তার কোনো আলাদা তালিকাও দেওয়া হয়নি।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্কুলের পোশাকবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব স্কুলের পেডাগজিক্যাল কাউন্সিলের। সন্তানদের নিয়ম মেনে পোশাক পরানো নিশ্চিত করতে হবে অভিভাবকদেরও।
তবে আজারবাইজানের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং জাতীয় ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধবিষয়ক অনুষ্ঠানে স্কুলের অনুমোদন নিয়ে জাতীয় পোশাক পরার সুযোগ রাখা হয়েছে।
নতুন নিয়ম প্রকাশের পর কয়েকটি আজারবাইজানি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, ‘ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি’ মেনে চলার শর্তটি হিজাব পরার ওপর বিধিনিষেধের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে হিজাবের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য কি না, সে বিষয়ে আজারবাইজান সরকার এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
গত জুলাইয়ে দেশটির সাধারণ শিক্ষা আইনেও পরিবর্তন আনা হয়। সংশোধিত আইনে জাতীয়তা ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে সাধারণ শিক্ষার নীতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মীদের পোশাকবিধি মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে স্কুলে ধর্মীয় পোশাক পরার ওপর কার্যত নিষেধাজ্ঞার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের ইসলামোফোবিয়া নিয়ে করা সাম্প্রতিক মন্তব্যও আলোচনায় এসেছে।
সম্প্রতি ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সমালোচনা করে আলিয়েভ বলেন, ‘ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এমন ইসলামোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ধর্ম ও ইসলামি বিশ্বের বিরুদ্ধে একটি অঘোষিত যুদ্ধ চলছে, আর ইসলামোফোবিয়া তারই একটি ছোট অংশ।’
সময়ের আলো/ইউএমএইচ